পাতা:জাপানে-পারস্যে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২০৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৯৩
পারস্যে

নিয়ে পাখা মেলে বিজয়দেবতা দাঁড়িয়ে—তার নিচে এক দাঁড়ানাে মূর্তি এবং তার নিচে বর্মপরা অশ্বারােহী। পাশের দেয়ালে শিকারের ছবি। এই মূর্তিগুলিতে আশ্চর্য্য একটি শক্তি প্রকাশ পেয়েছে, দেখে মন স্তম্ভিত হয়।

 সাসানীয় যুগ বলতে কী বােঝায় সংক্ষেপে বলে রাখি।

 আলেকজাণ্ডারের আক্রমণে আকেমেনীয় রাজত্বের অবসান হল। পরে যে-জাত পারস্যকে দখল করে তাদের বলে পার্থীয়। তারা সম্ভবত শকজাতীয়, প্রথমে গ্রীকদের প্রভাবে আসে পরে তারা পারসীক সভ্যতা গ্রহণ করে। অবশেষে ২২৬ খ্রীস্টাব্দে সাসান-এর পৌত্র আর্দাশির পার্থীয় রাজার হাত থেকে পারস্যকে কেড়ে নিয়ে আর একবার বিশুদ্ধ পারসীক জাতির সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। এঁদের সময়কার প্রবল সম্রাট ছিলেন শাপুর, তিনিই রােমের সম্রাট ভ্যালেরিয়ানকে পরাস্ত ও বন্দী করেন।

 আকেমেনীয়দের ধর্ম ছিল জরথুস্ট্রীয়, সাসানীয়দের আমলে আর একবার প্রবল উৎসাহে এই ধর্মকে জাগিয়ে তােলা হয়।

 ঋজু প্রশস্ত নূতন তৈরি পথ বেয়ে আসছি। অদূরে সামনে পাহাড়ের গায়ে কির্মানশা শহর দেখা দিল। পথের দুইধারে ফসলের ক্ষেত, আফিমের ক্ষেত ফুলে আচ্ছন্ন, মেঘের আড়াল থেকে অস্তসূর্যরশ্মির আভা পড়ে সদ্যধৌত গাছের পাতা ঝলমল করছে।

 শহরে প্রবেশ করলুম। পরিষ্কার রাস্তার দুইধারে নানাবিধ পণ্যের দোকান। পথের ধুলাে মারবার জন্যে ভিস্তিরা মশকে করে জল ছিটচ্চে। সুন্দর বাগানের মধ্যে আমাদের বাসা। দ্বারের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন এখানকার গবর্ণর। ঘরে নিয়ে গিয়ে চা খাওয়ালেন। এই পরিষ্কার সুসজ্জিত নূতন বাড়িটি আমাদের ব্যবহারের জন্য ছেড়ে দিয়ে গৃহস্বামী চলে গেছেন।