পাতা:জাপানে-পারস্যে-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১১

 সেই খিদিরপুরের ঘাট থেকে আরম্ভ করে আর এই হংকং-এর ঘাট পর্যন্ত, বন্দরে বন্দরে বাণিজ্যের চেহারা দেখে আসছি! সে যে কী প্রকাণ্ড, এমন করে তাকে চোখে না দেখলে বােঝা যায় না—শুধু প্রকাণ্ড নয়, সে একটা জবড়জঙ্গ ব্যাপার। কবিকঙ্কণচণ্ডীতে ব্যাধের আহারের যে বর্ণনা আছে,—সে এক-এক গ্রাসে এক-এক তাল গিলছে, তার ভােজন উৎকট, তার শব্দ উৎকট,—এও সেই রকম; এই বাণিজ্যব্যাধটাও হাঁসফাঁস করতে করতে এক-এক পিণ্ড মুখে যা পুরছে, সে দেখে ভয় হয়—তার বিরাম নেই, আর তার শব্দই বা কী! লােহার হাত দিয়ে মুখে তুলছে, লােহার দাঁত দিয়ে চিবচ্ছে, লােহার পাকযন্ত্রে চিরপ্রদীপ্ত জঠরানলে হজম করছে এবং লােহার শিরা উপশিরার ভিতর দিয়ে তার জগৎজোড়া কলেবরের সর্বত্র সােনার রক্তস্রোত চালান করে দিচ্ছে।

 একে দেখে মনে হয় যে এ একটা জন্তু, এ যেন পৃথিবীর প্রথম যুগের দানব-জন্তুগুলাের মতাে। কেবলমাত্র তার ল্যাজের আয়তন দেখলেই শরীর আঁৎকে উঠে! তার পরে সে জলচর হবে, কি স্থলচর হবে, কি পাখি হবে, এখনাে তা স্পষ্ট ঠিক হয় নি,—সে খানিকটা সরীসৃপের মতে, খানিকটা বাদুড়ের মতাে, খানিকটা গণ্ডারের মতাে। অঙ্গসৌষ্ঠব বলতে যা বােঝায়, তা তার কোথাও কিছুমাত্র নেই। তার গায়ের চামড়া ভয়ঙ্কর স্থূল; তার থাবা যেখানে পড়ে, সেখানে পৃথিবীর গায়ের কোমল সবুজ চামড়া উঠে গিয়ে একেবারে তার হাড় বেরিয়ে পড়ে; চলবার সময় তার বৃহৎ বিরূপ