জগতের সুখ, জগতের আশা, যত ভালবাসা,—
সকলের ভাগী এ অধম জন।”
তখনই মিছে মায়া নিদ্রাবেশ কাটিয়া গিয়া,—দিব্য দৃষ্টি লাভ করিয়া, ভারতযুদ্ধক্ষেত্রে অর্জ্জুনের মত, ভগবদ্দেহে নিখিল বিশ্বের অনন্ত সম্বন্ধসকলকে যুগপৎ একস্থ ও পৃথকীভূত প্রত্যক্ষ করিয়া কৃতার্থ হই।
দ্বিতীয় অধ্যায়
এই ক্ষুদ্র প্রাণ ভগবদ্দেহে, ভাগবতী লীলার অঙ্গরূপে, এই বিশাল কর্ম্মজালে আবদ্ধ হইয়া, পৃথিবীতে আসিয়া উপস্থিত হয়। তাই বলি, এই এক রত্তি মানুষ, এই এক মুঠো রক্তমাংস, সামান্য বস্তু নহে। ব্রহ্মাণ্ডের অনাদিসঞ্চিত সমুদায় কর্ম্মের বোঝা মাথায় করিয়া, এই ক্ষুদ্র প্রাণ, এই সূতিকাগারে আসিয়া ভাসিয়া উঠিয়াছে। ক্ষিত্যপতেজমরুৎব্যোম—এই পঞ্চমহাভূতের যা কিছু দোষগুণ, তাহা সমুদায় ইহার এই সকল ক্ষুদ্র অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে অভিনব আশ্রয় পাইয়াছে। এই পঞ্চ মহাভূতের গত কর্ম্মের বোঝা বহিবার জন্য এই শিশু এই ভৌতিক জগতে আসিয়া জন্মিয়াছে। যুগযুগান্ত সঞ্চিত এই ভৌতিক ঋণ সে শোধ দিতে এই মহাসংকল্প লইয়া জন্মিয়াছে—শোধ দিবে, না হয় এই ভৌতিক ঋণের শরশয্যাতেই তনুত্যাগ করিয়া চলিয়া যাইবে, এই ভীষ্মের প্রতিজ্ঞা লইয়া এই প্রাণ এই ভৌতিক দেহ ধারণ করিয়াছে। তাই আমরণ এই সকল মহাভূত অহর্নিশ, অবিশ্রান্তভাবে, তার এই ভৌতিক দেহের সেবাতে নিযুক্ত রহে। আপনাদের অনাদিকত কর্ম্মবন্ধন এই ক্ষুদ্র প্রাণী আত্মবলিদানে নষ্ট করিবে, আপনাদিগের অনাদিকৃত পুণ্যফল এ পুষ্ট করিবে,—এই আশায় উৎফুল্ল হইয়া, এই সকল মহাভূত নবজাত ক্ষুদ্র প্রাণীর মুখপানে সতৃষ্ণ হইয়া চাহিয়া থাকে।