পাতা:জ্ঞাতি শত্রু - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

৩৬

দারােগার দপ্তর, ২০২ সংখ্যা।


শক্তিরই কার্য্য। লোকটা নীচ সংসর্গে থাকিয়া নীচ প্রকৃতি প্রাপ্ত হইয়াছে। যে ব্যক্তি অন্নদাতা জ্যেষ্ঠের নিন্দা করে, তাঁহাকে শক্ত বলিয়া পরিচয় দেয়, সে লোক সকল কথাই বলিতে পারে। কিন্তু হরিসাধন তেমন ছিলেন, না। তিনি বুঝিতে পারিয়াছিলেন যে, আমি তাঁহাকে তাঁহার পৈত্রিক সম্পত্তি হইতে বঞ্চিত করি নাই বরং তিনিই এতদিন আমাদিগকে ঐ স্বত্ত্ব হইতে বঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছিলেন। যখন বুঝিতে পাৱিলেন, তখন আর আমাদের মনোমালিন্য রহিল না। কাল তাঁহাদের বাড়ীতে নিমন্ত্রণ ছিল, আমাদের উভয়ের মধ্যে এত সদ্ভাব যে, আমরা একপাতে দুইজনে আহার করিয়াছিলাম। শক্তিসাধন স্বচক্ষে এ ব্যাপার দেখিয়াছে।

 আমি সে কথার কোন উত্তর না দিয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনি শুনিয়াছেন, হরিসাধনবাবুর পাকস্থলীতে আর্সেনিক পাওয়া গিয়াছে। তিনি বাস্তবিকই কলেয়ায় মারা পড়েন নাই।”

 রসময়বাবু আশ্চর্য্যান্বিত হইলেন; কিন্তু তাঁহার মুখ দেখিয়া তাঁহাকে ভীত বলিয়া বোধ হইল না। কিছুক্ষণ পরে জিজ্ঞাসা করিলেন, “মহাশয়! হরিসাধনের মৃতদেহের সৎকার হইয়া গিয়াছে কি?”

 আমি উত্তর করিলাম, “এতক্ষণ বোধ হয় হইয়া গিয়াছে। অপরের দোষে তাঁহার মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করা হইয়াছিল। তাঁহার কি কোন সন্তান আছে?”

 র। আজ্ঞে না। শক্তিসাধনই তাঁহার মুখাগ্নি করিবার উপযুক্ত ভাই, কিন্তু লোকটা জাতিচ্যুত হইয়াছে। সুতরাং তাঁহার স্ত্রীকেই ঐ কার্য্য করিতে হইবে।