পাতা:ডিটেক্‌টিভ পুলিস (প্রথম কাণ্ড) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/২৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৮

ডিটেক্‌টিভ পুলিস, ১ম কাণ্ড।


বাহিত হইল, কিন্তু কি নিমিত্ত গোলাপ, কেদার বাবুকে ডাকিয়াছে, এ পর্য্যন্ত তাহার বিন্দুবিসর্গও জানিতে পারিলাম না। দেখিতে দেখিতে কেদার বাবু উঠিয়া বাহিরের বারান্দায় গমন করিলেন, কিন্তু তাঁহার হস্তস্থিত হুঁকা পরিত্যাগ করিলেন না; গোলাপও তাঁহার পশ্চাৎ পশ্চাৎ প্রস্থান করিল। আমি সেই স্থানেই বসিয়া রহিলাম, এবং মনে মনে ভাবিতে লাগিলাম,—‘বাল্যকাল হইতে আমার দৃঢ় বিশ্বাসের উপর নির্ভর করিয়া রাত্রিদিন আমি যে সকল স্ত্রীলোককে অতিশয় ঘৃণার চক্ষে দেখিতাম—যাহাদিগের ছায়া পর্য্যন্ত স্পর্শ করিলে মহাপাপ সংঘটিত হইবে, ভাবিতাম—যাহাদিগের বাটীর ভিতর এক পদ অগ্রসর হইলে ভয়ানক বিপদ্‌জালে জড়ীভূত হইব বলিয়া বিশ্বাস করিতাম—এখন দেখিতেছি, সেই ভাবনা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ অমূলকমাত্র। যে স্ত্রীলোক এরূপ সরল ও সাধু ভাবে আমাদিগের সহিত আলাপ পরিচয় করিতেছে—যাহার হৃদয়ের মধ্যস্থিত স্তর পর্য্যন্ত দৃষ্টিগোচর হইতেছে—তাহার নিকট কোন প্রকারেই অনিষ্ট আশঙ্কার সম্ভাবনা নাই।’ আমি এইরূপ চিন্তা করিতেছি ও তাহার ঘরের সৌন্দর্য্য অনিমিষ-লোচনে দর্শন করিতেছি, এমন সময়ে বারান্দা হইতে উভয়েই প্রত্যাগমন করিলেন। কেদার হুঁকাটী রামদাসের হস্তে অর্পণ করিয়া আমাকে কহিলেন, “চল ভাই, অনেক বিলম্ব হইয়াছে।”

 গোলাপ কেদার বাবুকে সম্বোধন করিয়া বলিল, “কেদার বাবু! আমিও মহাশয়দিগকে আর অধিক কষ্ট দিতে ইচ্ছা করি না। যাহা হউক, অনেকক্ষণ হইতে আপনাদিগকে কষ্ট