পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

শমিলা দৈন্যকে ভয় করে না। বরঞ্চ ও জানে অভাবের দিনে স্বামীর সংসারে ওর স্থান আরো বেড়ে যাবে। দারিদ্র্যের কঠোরতাকে যথাসম্ভব মৃদু ক’রে এনে দিন চালাতে পারবে এ বিশ্বাস ওর অাছে। বিশেষত গয়না যা হাতে রইল তা নিয়ে এখনো কিছু কাল বিশেষ দুঃখ পেতে হবে না। এ-কথাটাও সংকোচে মনে উকি মেরেছে যে, উৰ্মির সঙ্গে বিয়ে হোলে তার সম্পত্তিও তো স্বামীরই হবে। কিন্তু শুধু জীবনযাত্ৰাই তো যথেষ্ট নয়। এতদিন ধ’রে নিজের শক্তিতে নিজের হাতে স্বামী যে সম্পদ সৃষ্টি করে তুলেছিল, যার খাতিরে আপন হৃদয়ের অনেক প্ৰবল দাবিকেও শৰ্মিলা ইচ্ছে ক’রে দিনে দিনে ঠেকিয়ে রেখেছে, সেই ওদের উভয়ের সম্মিলিত জীবনের মূৰ্তি মান আশা অাজ মরীচিকার মতো মিলিয়ে গেল এরই অগৌরব ওকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলে। মনে মনে বলতে লাগল, তখনি যদি মরতুম তাহলে তো এই ধিককারটা বঁাচত আমার। অামার ভাগ্যে যা ছিল, তা তো হোলো কিন্তু দৈন্য-অপমানের এই নিদারুণ শূন্যতা একদিন কি পরিতাপ আনবে না। ওঁর মনে। যার মোহে অভিভূত হয়ে এটা ঘটতে পারল একদিন