পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জাভা-যাত্রীর পত্র এখনকার পাবলিক একটা বিশেষ কালের দানাবাধা সর্বসাধারণ । তার মধ্যে খুব নিরেট হয়ে তাল পাকিয়ে আছে এখনকার কালের রাষ্ট্রনীতি সমাজনীতি ধর্মনীতি, এখনকার কালের বিশেষ রুচি প্রবৃত্তি এবং আরো কত কী। এই সর্বসাধারণ যে মানবসাধারণের প্রতিরূপ, তা বলা চলবে না । এর ফরমাশ যে একশো বছর পরের ফরমাশের সঙ্গে মিলবে না, সে কথা জোর করেই বলতে পারি। কিন্তু, এই উপস্থিতকালের সর্বসাধারণ কানের খুব কাছে এসে জোর গলায় ও দিচ্ছে, বাহবা দিচ্ছে। উপস্থিতকালের সংকীর্ণ পরিধির তুলনাতেও এই ছও-বাহবার স্থায়িত্ব অকিঞ্চিৎকর । পাবলিক-মহারাজ আজ দুই চোখ লাল করে যে কথাটাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, আসছে-কাল সেইটেকেই এমনি চড়া গলায় ব্যবহার করে যেন সেটা তার নিজেরই চিরকালের চিন্তিত কথা । আজ যে কথা শুনে তার দুই গাল বেয়ে চোখের জল বয়ে গেল, আসছে-কাল সেটাকে নিয়ে হাসাহাসি করবার সময় নিজের গদগদচিত্তের পূর্ব-ইতিহাসটি সম্পূর্ণ বে-কবুল যায়। ইংরেজ বেনের আপিসঘর-গুদামঘরের আশে-পাশে হঠাৎ যখন কলকাতা শহরটা মাথাবাড়া দিয়ে উঠল তখন সেখানে এই নতুনগড়া দোকানপাড়ার এক পাবলিক দেখা দিলে। অন্তত, তার এক ভাগের চেহারা হুতুম পেচার নকশায় উঠেছে। তারই ফরমাশের ছাপ পড়েছে দাশুরায়ের পাচালিতে । ঘন ঘন অনুপ্রাস তপ্তখোলার উপরকার খইয়ের মতো পটুপটু শব্দে ফুটে ফুটে ফুলে ফুলে উঠতে লাগল— ভাবে শ্রীকান্ত নরকান্তকারীরে, নিতান্ত কৃতান্ত-ভয়াস্ত হবে ভবে। চারি দিকে হায়-হায় শব্দে সভা তোলপাড়। দুই কানে হাত-চাপা, 3. a