পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নবম পত্ৰ রুদ্ধ করে ফেলে। বৈরাগ্যের অযত্নে দিনে দিনে চারি দিকে যে প্রভূত আবর্জনার অবরোধ জমে ওঠে তাতেই মানুষের পরাভব ঘটায়। বৈরাগ্যের দেশে শিল্পকলাতেও মানুষ অন্ধ পুনরাবৃত্তির প্রদক্ষিণপথে চলে, এগোয় না, কেবলই ঘোরে। মাদ্রাজের শ্রেষ্ঠা পয়ত্রিশ লক্ষ টাকা খরচ করে, হাজার বছর আগে যে মন্দির তৈরি হয়েছে ঠিক তারই নকল করবার জন্তে । তার বেশি তার সাহস নেই, ক্লান্ত মনের শক্তি নেই ; পাখির অসাড় ডানা খাচার বাইরে নিজেকে মেলে দিতে আনন্দ পায় না। খাচার কাছে হার মেনে যে পাখি চিরকালের মতো ধরা দিয়েছে সমস্ত বিশ্বের কাছে তাকে হার মানতে হল । এ দেশে এসে প্রথমে আনন্দ হয় এখানকার সব অনুষ্ঠানের বৈচিত্র্যে ও সৌন্দর্যে । তার পরে ক্রমে মনে সন্দেহ হতে থাকে, এ হয়তো খাচার সৌন্দর্য, নীড়ের সৌন্দর্য নয়— এর মধ্যে হয়তো চিত্তের স্বাধীনতা নেই। অভ্যাসের যন্ত্রে নিখুত নকল শত শত বৎসর ধরে ধারাবাহিক ভাবে চলেছে । আমরা যারা এখানে বাহির থেকে এসেছি আমাদের একটা তুর্লভ সুবিধা ঘটেছে এই যে, আমরা অতীত কালকে বর্তমানভাবে দেখতে পাচ্ছি। সেই অতীত মহৎ, সেই অতীতের ছিল প্রতিভা, যাকে বলে নবনবোন্মেষশালিনী বুদ্ধি ; তার প্রাণশক্তির বিপুল উদ্যম আপন শিল্পস্থষ্টির মধ্যে প্রচুরভাবে আপন পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু তবুও সে অতীত, তার উচিত ছিল বর্তমানের পিছনে পড়া ; সামনে এসে দাড়িয়ে বর্তমানকে সে ঠেকিয়ে রাখল কেন ? বর্তমান সেই অতীতের বাহন মাত্র হয়ে বলছে, আমি হার মানলুম। সে দীনভাবে বলছে, এই অতীতকে প্রকাশ করে রাখাই আমার কাজ, নিজেকে লুপ্ত করে দিয়ে। নিজের পরে বিশ্বাস করবার সাহস নেই। এই হচ্ছে নিজের শক্তি 8 82