পাতা:দুই বোন - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১১২
দুই বোন

মাধবীলতার মজায় মজায় যে ফুল ফোটাবার বেদনা সেই বেদনা যেন উমির সমস্ত দেহকে ভিতর থেকে উৎসুক করেছে। পাশের নাবার ঘরে গিয়ে মাথা ধুয়ে নিলে, গা মুছলে ভিজে তোয়ালে দিয়ে। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে করতে কিছুক্ষণ পরে স্বপ্ন জড়িত ঘুমে আবিষ্ট হয়ে পড়ল। রাত্ৰি তিনটের সময় ঘুম ভেঙেছে। চাদ তখন জানলার সামনে নেই। ঘরে অন্ধকার, বাইরে আলোয় ছায়ায় জড়িত সুপারিগাছের বীথিকা। উমির বুক ফেটে কান্না এল, কিছুতে থামতে চায় না। উপুড় হয়ে পড়ে বালিশে মুখ গুজে কঁাদতে লাগল। প্ৰাণের এই কান্না, ভাষায় এর শব্দ নেই, অৰ্থ নেই। প্ৰশ্ন করলে ও কি বলতে পারে কোথা থেকে এই বেদনার জোয়ার উদবেলিত হয়ে ওঠে ওর দেহে মনে, ভাসিয়ে নিয়ে যায় দিনের কৰ্মতালিকা, রাত্রের সুখনিদ্ৰা। সকালে উমি যখন ঘুম ভেঙে উঠল তখন ঘরের মধ্যে রেীন্দ্ৰ এসে পড়েছে। সকালবেলাকার কাজে ফঁাক পড়ল, ক্লান্তির কথা মনে ক’রে শমিলা ওকে ক্ষমা করেছে। কিসের অনুতাপে উৰ্মি আজ অবসন্ন। কেন