খাদ্য গ্রহণ করিত, তাহার পরিবর্ত্তে শিশু এখন মুখ দিয়া খায়। জীবকোষগুলির পুষ্টি সাধনের জন্যই এই খাদ্য গ্রহণ। এই জীবকোষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি হইয়া থাকে, এবং শরীরের যখন যে অংশে প্রয়োজন তখন সেই অংশে গিয়া তাহার অকর্ম্মণ্য তন্তুগুলির সংস্কার করিয়া থাকে। মূলকেন্দ্র হইতে জীবকোষগুলি রক্তে আসে এবং রক্তের সহিত শরীরের সর্ব্বত্র যায়। জীবকোষগুলির এক একটি সমষ্টি এক একটি দৈহিক ক্রিয়ার জন্য নিযুক্ত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের সংস্কারকার্য্য করিয়া থাকে। এই জীবকোষগুলি নিজেরা সহস্রবার মরিয়া ‘জীবকোষের সমাজকে’ অর্থাৎ দেহপ্রাণকে বাঁচাইয়া রাখে। ইহাদের ‘মৃত দেহ’ উপরের দিকে আসিয়া শক্ত হইয়া অস্থি, দন্ত, চর্ম্ম, কেশ প্রভৃতিতে পরিণত হয় এবং দেহকে রক্ষা ও বলবান করে। ইহাদের মৃত্যু বিনিময়েই দেহের উচ্চতর জীবন এবং তার উপর নির্ভরশল অপর যাহা কিছু বাঁচিয়া থাকে। জীবকোষসকল যদি খাদ্য গ্রহণ না করিত, যদি ইহাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না হইত, যদি ইহারা শরীরের বিভিন্ন অংশে না যাইত এবং বিভিন্ন ক্রিয়া না করিত এবং পরিশেষে না মরিত তবে দেহ বাঁচিয়া থাকিতে পারিত না।
পূর্ব্বকথিত মতে দেখা যায় যে, বীজকোষ হইতে দুই প্রকার প্রাণের উদ্ভব হয়: (১) আভ্যন্তরিক বা অন্তর্জননীয় (২) বাহ্যিক বা জননীয়। অন্তর্জননই দেহের জীবনের ভিত্তি এবং অন্তর্জনন ও জননের উপাদান একই মূল হইতে আহৃত হয়। ইহা হইতেই বুঝা যাইবে কিরূপে অন্তর্জনন ও জনন অবস্থাবিশেষে পরস্পরবিরোধী হইয়া থাকে।
৩। অন্তর্জনন ও অগোচর
অন্তর্জনন ক্রিয়ার প্রকৃতি যান্ত্রিক নহে, পরন্তু একটি জীব ভাগ হইয়া দুইটি হইবার প্রণালীর ন্যায় ইহা জৈবিক; অর্থাৎ ইহাতে বৃদ্ধি