লইবে; কেবল ইহা মনে রাখিতে হইবে, স্ব-নির্ব্বাচিত পথের নিয়ম যেন প্রত্যেকে পালন করে।
এরূপ নীতিশাস্ত্রে নিষেধের ক্রমনিম্ন ধাপ আছে। যে ব্যক্তি অখণ্ড ব্রহ্মচর্য্যে বিশ্বাসী এবং উচ্চতর শারীরিক ও আত্মিক কল্যাণের জন্য যে বুদ্ধিমানের ন্যায় ইন্দ্রিয়সংযম করিতে ইচ্ছুক, সব রকম সম্ভোগ তাহার পক্ষে নিষেধ; যে বিবাহ-বন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছে, পরপুরুষ বা পরস্ত্রীসঙ্গ তাহার পক্ষে নিষেধ। অধিকন্তু যে সব অবিবাহিতের অবাধ অথবা অনিয়মিত সম্ভোগ চলে তাহাদের পক্ষে বেশ্যাগমন আরও খারাপ; যাহারা স্বাভাবিক মৈথুনে লিপ্ত হইয়া থাকে, তাহাদের অস্বাভাবিক মৈথুন ত্যাগ করা উচিত। পরিশেষে, প্রত্যেক শ্রেণীর লোকের ভিতর যাহারা হাল ছাড়িয়া দিয়া চলে, অতিমাত্রায় ইন্দ্রিয়সেবা তাহাদের পক্ষে অনিষ্টকর। অপরিণতবয়স্ক এবং নব-যুবকদের ইন্দ্রিয়সেবা স্থগিত রাখা উচিত। ইহাই সম্ভোগনীতির স্বরূপ।
আমি ইহা ধারণাও করিতে পারি না যে, কোনো ব্যক্তি এই সম্ভোগনীতি বুঝিতে পারিবে না। যাহারা বিশেষভাবে ইহা চিন্তা করিবে, তাহাদের অতি অল্প লোকেই ইহার মূল্য অস্বীকার করিবে। তথাপি নানাপ্রকার কুতর্ক দ্বারা এইরূপ নীতির বিরোধিতা করার প্রবৃত্তি কাহারও কাহারও আছে দেখা যায়। লোকে ধরিয়া লয়, যেহেতু ব্রহ্মচর্য্য পালন করা কঠিন এবং নৈষ্ঠিক ব্রহ্মচারী অত্যন্ত দুর্লভ, অতএব ব্রহ্মচর্য্যের সমর্থন করা ঠিক নহে। এইরূপ তর্ক অনুসারে নিজ পতি অথবা পত্নীতে অনুরক্ত থাকা অথবা দাম্পত্যজীবনে পরিমিত সম্ভোগ করা, কিংবা কেবল স্বাভাবিক মৈথুনে আসক্ত হওয়াও ঠিক নহে, কারণ কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলি পালন করাও দুষ্কর। একটি আদর্শ খর্ব্ব করিলে, সকল আদর্শই খর্ব্ব করা যায়, এবং ঘৃণিত পাপ ও কামনাবাসনার