পাতা:দেবদাস - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে চলুন অনুসন্ধানে চলুন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

কন্যাকর্ত্তা। পাকা লোক—কোন পক্ষে, কোনদিকেই ত্রুটি হইল না। শুভকর্ম্ম সুশৃঙ্খলায় সমাধা হইয়া গেল।

 পরদিন প্রাতঃকালে চৌধুরীমহাশয় এক বাক্স অলঙ্কার বাহির করিয়া দিলেন। পার্ব্বতীর সর্বাঙ্গে সে-সকল ঝলমল করিয়া উঠিল। জননী তাহা দেখিয়া আঁচল দিয়া চোখের কোণ মুছিলেন। নিকটে জমিদার-গৃহিণী দাঁড়াইয়া ছিলেন,—তিনি সস্নেহে তিরস্কার করিয়া বলিলেন, আজ চোখের জল ফেলে অকল্যাণ করিস নে দিদি!

 সন্ধ্যার কিছু পূর্বে মনোরমা পার্ব্বতীকে একটা নির্জন ঘরে টানিয়া লইয়া গিয়া আশীর্বাদ করিল—যা হল, ভালই হল। এখন থেকে দেখবি—কত সুখে থাকবি।

 পার্ব্বতী অল্প হাসিয়া বলিল, তা থাকব। যমের সঙ্গে কাল একটুখানি পরিচয় হয়েছে কিনা!

 ও কি কথা রে!

 সময়ে সব দেখতে পাবি।

 মনোরমা তখন অন্য কথা পাড়িল; কহিল, একবার ইচ্ছে করে, দেবদাসকে ডেকে এনে এই সোনার প্রতিমা দেখাই!

 পার্ব্বতীর যেন চমক ভাঙ্গিল। পারিস দিদি? একবার ডেকে আনতে পারা যায় না?

 কণ্ঠস্বরে মনোরমা শিহরিয়া উঠিল,—কেন পারু!

 পার্ব্বতী হাতের বালা ঘুরাইতে ঘুরাইতে অন্যমনস্কভাবে কহিল, একবার পায়ের ধূলা মাথায় নেব—আজ যাব কিনা!

 মনোরমা পার্ব্বতীকে বুকের ভিতর টানিয়া লইয়া, দু'জনে বড় কান্না কাঁদিল। সন্ধ্যা হইয়া গিয়াছে, ঘর অন্ধকার—পিতামহী দ্বার ঠেলিয়া বাহির হইতে কহিলেন, ও পারু ও মনো, তোরা বাইরে আয় দিদি!

 সেই রাত্রিতেই পার্ব্বতী স্বামীর ঘরে চলিয়া গেল।


নয়

 আর দেবদাস? সে রাত্রিটা সে কলিকাতা ইডেন গার্ডেনের একটা বেঞ্চের উপর বসিয়া কাটাইয়া দিল। তাহার খুব যে ক্লেশ হইতেছিল, যাতনায় মর্ম্মভেদ