পাতা:প্রহাসিনী-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.djvu/১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আধুনিক সেকালেও কালিদাস-বররুচি-আদিরা পুরসুন্দরীদের প্রশস্তিবাদীরা যাদের মহিমাগানে জাগালেন বীণারে তারাও সবাই ছিল অধুনার কিনারে । আধুনিক ছিল নাকে হেন কাল ছিল না, তাহাদেরি কল্যাণে কাব্যানুশীলন। পুরুষ কবির ভালে আছে কোনো সুগ্ৰহ, চিরকাল তাই তারে এত মহামুগ্রহ । জুতা-পায়ে খালি-পায়ে স্লিপারে বা নুপুরে নবীনারা যুগে যুগে এল দিনে দুপুরে, যেথা স্বপনের পাড়া সেথা যায় আগিয়ে, প্রাণটাকে নাড়া দিয়ে গান যায় জাগিয়ে । তবু কবি-রচনায় যদি কোনো ললনা , দেখো অকৃতজ্ঞতা, জেনো সেটা ছলনা। মিঠে আর কটু মিলে, মিছে আর সত্যি, ঠোকাঠুকি ক’রে হয় রস-উৎপত্তি। মিষ্ট-কটুর মাঝে কোনটা যে মিথ্যে সে কথাটা চাপ থাক কবির সাহিত্যে । ওই দেখো, ওটা বুঝি হল শ্লেষবাক্য। এরকম বাকা কথা ঢাকা দিয়ে রাখ্য। প্রলোভনরূপে আসে পরিহাসপটুতা, সামলানো নাহি যায় অকারণ কটুতা । > O