পাতা:প্রাচীন বাঙ্গলা সাহিত্যে মুসলমানের অবদান.djvu/৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চতুর্থ পরিচ্ছেদ বাঙ্গালার কাঠ ও সাহিত্যের ত্রিবেণী-সঙ্গম বৌদ্ধ, হিন্দু ও মুসলমান মুসলমানগণ বুঝিয়াছিলেন—নাথ-পন্থী এবং সহজিয়ারা বঙ্গের জনসাধারণের গুরুস্থানীয় । পূৰ্ব্ব-বঙ্গে ইহাদের সংখ্যা লক্ষ লক্ষ। ইহার পরাভূত বৌদ্ধ-শক্তির ধ্বংসাবশেষ ;–বুদ্ধের জন্মোপলক্ষে ইহারা চড়ুকোৎসব করে। এক মাসকাল গেরুয়৷ পরিয়া ও কাছা গলায় বাধিয়া অহিংসা-নীতি পালন করে এবং সন্ন্যাসী সাজে । তাহার বেদ মানে না এবং গুরুর বাক্যে একান্ত প্রত্যয়শীল । ইহাদের উৎসবের নাম ধৰ্ম্মের গাজন" । পরবর্তীকালে তাহ ‘শিবের গাজম’ নামে পরিচিত হইয়াছিল। ইহাদের স্বাধীন মত ও সংস্কার-বজ্জিত উদারতা সুফী-মতের অনেকটা অনুকূল। ইহারা ভক্তি-সাধনায় অনেকটা অগ্রসর ; ইহাদের সকলেই উচ্চ-হিন্দুশ্রেণী কর্তৃক নিৰ্য্যাতিত । তাহা ছাড়া ইহার গুরুবাদী ও অলৌকিক শক্তিতে আস্থাবান । এই সকল কারণে সুফী সম্প্রদায় ইহাদের মধ্যেই প্রচার-কাৰ্য্য চালাইতে লাগিলেন । কিন্তু সেকালে প্রচার-নীতি শুধু বর্জনমূলক ছিল না। তাহারা একদিকে বর্জন করিতেন এবং অন্যদিকে গ্রহণ করিতেন । এই সদ্ধক্ষ্মীর ব্রাহ্মণের উৎপীড়নে ত্ৰাহি ত্ৰাহি ডাক ছাড়িতেছিল ; ইসলামের সামাজিক উদারতা ও সাম্য ইহাদিগকে বিশেষ করিয়া আকর্ষণ করিয়াছিল । ইহাদের মধ্যে বহু সংখ্যক নরনারী ইসলামের ভুজাপ্রয়ে আসিয়া শান্তি লাভ করিল। বঙ্গের এক বৃহৎ জনসাধারণ গোড়া হিন্দু সমাজের দ্বারা উপেক্ষিত হইয়া সেই কঠোর গণ্ডীর