বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বংশ-পরিচয় (ষষ্ঠ খণ্ড) - জ্ঞানেন্দ্রনাথ কুমার.pdf/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

२br বংশ-পরিচয় । রাজসাহী ডিষ্ট্ৰক্ট বোর্ডকে দান করিয়াছেন। রাজসাহীতে জলের কল হইলে সাধ্যমত সাহায্য করিবেন, স্বীকৃত হইয়াছেন। এত অল্পকাল মধ্যে উভয় ভ্ৰাতা স্বীয় প্রজাদের নিকট হইতে আশাতীত খ্যাতি, সম্মান, ভক্তি লাভ করিয়াছেন, ইহা কম শ্লাঘার বিষয় নহে। তঁহাদের দরবার-গৃহের দ্বার প্রজাদের জন্য সর্বদা উন্মুক্ত। কৃষ্ণগোবিন্দ মৈত্রের কনিষ্ঠ পুত্ৰ গোবিন্দমোহন মৈত্র অতিশয় ধাৰ্ম্মিক ছিলেন। তিনি বিষয় তত্ত্বাবধানের ভার জ্যেষ্ঠ আনন্দমোহন মৈত্রের উপর অর্পণ করিয়া জীবনের অবশিষ্টাংশ দেবসেবায় যাপন করিবার মানসে পৈতৃক বিগ্ৰহ ৬ রাধামাধব জিউ ঠাকুরকে বৃন্দাবন লইয়া যান এবং তথায় মন্দির নিম্মাণ পূর্বক বিগ্ৰহ ঠাকুরকে স্থাপন করেন। গোবিন্দমোহনের বৃন্দাবনধামেই প্রাণবায়ু, নির্গত হয়। তাহার কোন পুত্রসন্তান ছিল মা । কৃষ্ণমতি নামে একটী কন্যা ছিল। গোবিন্দমোহনের মৃত্যুর পর তাহার স্ত্রী ভুবনমোহিনী দেবী রাজসাহী জেলার অন্তর্গত পাঁচবাড়ীয়া-নিবাসী প্ৰসিদ্ধ রায় জমিদার-বংশোদ্ভূত ৬/হরচন্দ্র রায়ের পুত্র তারকচন্দ্র রায়কে স্বামীর অনুমন্ত্যনুসারে নিজ দত্তকরূপে গ্ৰহণ করেন। দত্তকরূপে গৃহীত হইবার পর তারকচন্দ্রের নাম কুঞ্জমোহন হয় । দত্তক লওয়ার ৩৪ বৎসর পর ভুবনমোহিনী স্বৰ্গারোহণ করেন। এই সময়ে কুঞ্জমোহনের এষ্টেটসংক্রান্ত অনেক বড় বড় মামলা-মোকৰ্দমা হয়। কুঞ্জমোহনের জ্যেষ্ঠা ভগ্নী কৃষ্ণমতি দেবী ও ম্যানেজার যোগীন্দ্ৰচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় স্বীয় বুদ্ধিবলে এষ্টেট রক্ষা করেন। তৎপরে কুঞ্জমোহনের এষ্টেট সরকার কর্তৃক কোট অফ ওয়ার্ডসে গৃহীত হয়। কোর্টস অফ ওয়ার্ডসে সম্পত্তির খুব উৎকৰ্য সাধিত হইয়াছিল। কুঞ্জমোহনের ২১ বৎসর বয়সে এষ্টেট কোর্ট অফ ওয়ার্ডস হইতে মুক্ত হয়। কুজমোহনের এখন বয়স প্ৰায় পঞ্চাশ বৎসর। এ যাবৎকালে তিনি অতি সুচারুভাবে এষ্টেট পরিচালন করিয়া আসিতেছেন