«:2 ংশ পরিচয় । করিয়াছি ? তা নয়, বাবা ! সংসারে কৃষকগণ যেরূপ উৰ্ব্বারা ভূমিতে বীজ বপন করিয়া সুফল লাভ করে এবং সেই ফলে ভবিষ্যতে সহস্ৰ সহস্ৰ লোকের উপকার হয়, সেইরূপ আমিও তোমাকে উপযুক্ত পাত্ৰ বিবেচনা করিয়া মন্ত্র দান করিলাম। বাবা উদ্ধবচন্দ্ৰ ! তুমি ছেলে মানুষ এখনও তুমি বিশেষ কিছু বুঝি না, দেখ বাবা ! স্বর্ণকার যেমন উত্তম স্বর্ণ “পাইলে তাহাতে হীরা, মণি, মুক্ত প্ৰভৃতি বহুমূল্যবান পাথর বসাইয়া -সোণার সৌন্দৰ্য্য বৃদ্ধি করিয়া বহুমূল্যবান জিনিষ প্ৰস্তুত করতঃ অ্যাপন শিল্প-কৌশলতার পরিচয় দিয়া থাকে, সন্ন্যাসীরাও সেইরূপ উর্বর ‘মানব দেহ চিনিয়া তাহাতে যত্নপূর্বক উপযুক্ত বীজ বপন করেন । “কৃষক ও স্বর্ণকার যেমন নিজ নিজ স্বার্থের জন্য কাজ করিয়া থাকে, সন্ন্যাসীরা সেরূপ করেন না । তঁহারা বিরাগী, অনাসক্ত-ভাকে আপন কৰ্ত্তব্য বোধে জগতের উপকার করিতে সর্বদাই প্ৰস্তুত । তাই আমি আমার কৰ্ত্তব্য কাজ করিয়াছি তাহার জন্য আমার তো কোন অর্থের কামনা নাই, তবে তোমার টাকাটী দিবার প্রয়োজন কি ?” এবস্থপ্রকার নানা উপদেশ দিয়া উদ্ধবকে টাকাটী নিতে বলিলেন । উদ্ধক তাহা না শুনিয়া অনেক অনুনয় বিনয় করিয়া আবার টাকাটী দেওয়ার আগ্ৰহ প্ৰকাশ করিলেন। তখন সন্ন্যাসী বলিলেন, “বৎস উদ্ধব ! দক্ষিণা দিবার যখন তোমার ঐকান্তিক বাসনা তখন তোমার ইচ্ছা পূর্ণ হউক।” এই বলিয়া টাকাটী স্পর্শ করিয়া বলিলেন “বাবা ? এই আমি গ্ৰহণ করিলাম। উদ্ধাব তুমি এখনও বালক । তুমি এখন কিছু বুঝিতে পরিবে না। সুৰ্য্যের কিরণে তিমির নাশ না হইলে যেমন সূৰ্য্য উদয় হইয়াছে বলিয়া জানা যায় না, এও সেই প্রকার, সময়ে বুঝিতে পরিবে। আমার আর বেশী বলিবার কিছু নাই, তোমার বাবা শুভক্ষণে মিঠাই খাবার এই টাকাটী তোমায় দিয়াছিলেন, তাই ছিল। বলিয়া আজ এই অমূল্য মিঠাই লইতে সেই টাকাটী আনিয়াছ। তোমার
পাতা:বংশ-পরিচয় (ষষ্ঠ খণ্ড) - জ্ঞানেন্দ্রনাথ কুমার.pdf/৮২
অবয়ব