পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (তৃতীয় ভাগ).djvu/৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চন্দ্রশেখর সুসজ্জিত ছিল । শৈবলিনীকে নৌকায় তুলিলেন । নৌকায় হিন্দু দাস-দাসী এবং প্রহরী নিযুক্ত করিয়া দিলেন । এখন আবার হিন্দু দাস-দাসী কেন ? ফষ্টর নিজে অন্য যানে কলিকাতায় গেলেন । তাহাকে শীঘ্ৰ যাইতে হইবে—বড় নৌকায় বাতাস ঠেলিতে ঠেলিতে সপ্তাহে কলিকাতায় যাওয়া তাহার পক্ষে অসম্ভব । শৈবলিনীর জঙ্গ স্ত্রীলোকের আরোহণোপযোগী যানের সুব্যবস্থা করিয়া দিয়া তিনি যানাস্তরে কলিকাতায় গেলেন । এমত শঙ্ক। ছিল ন যে, তিনি স্বয়ং শৈবলিনীর নৌকার সঙ্গে না থাকিলে, কেহ নৌকা আক্রমণ করিপ্ল৷ শৈবলিনার উদ্ধার করিবে । ইংরেজের নৌকা শুনিলে কেহ নিকটে আসিবে না । শৈবলিনীর নেক মুঙ্গেরে যাইতে বলিয়া গেলেন । প্রভা ভবাতোপি তু ক্ষুদ তরঙ্গমলীর উপর অরে। - হণ করিদ্র। শৈবলিনার সুবিস্তৃত। তরণী উত্তরভিমুখে চলিল —যুবুনাদী বাঁচিশেণী তর তর শব্দে নৌকাতলে প্ৰহত হইতে লাগিল । তোমরা অল্প শঠ, প্রবঞ্চক, ধূৰ্ত্তকে মৃ ত পার বিশ্বাস করি ও, কিন্তু প্রভাতবায়ুকে বিশ্বাস করিও না । গ্রভ তলাবু বড় মধুর –চোরের মত টিপি টিপি আসিন্ন। এখানে পদ্মটি, ওখানে পুথিক। দাম, সেখানে সুগন্ধি বকুলের শাখ লষ্টয়। পারে পীরে ক্রীড়া করে : ক!হাবে গন্ধ আনিয়া দেয়, BBB 0 BB BBSS BBBS BSBBS BSBBBS চিন্তাসন্তপ্ত ললাট মি. করে যুবভার অলক রাজি দেখিলে তাইহে অল ফুৎকার দিয়া পলাইয়। যায় । তুমি নৌকারো হা-দেখিতেছ, এই ক্রীড়াশীল নদীকে সুসজ্জি ত করিতেছে ; আকাশস্থ দুই এক BBS BBS BBS BBBB BBBBS gBBS আকাশকে পরিষ্কার করিড়েছে ; তীরস্থ বৃক্ষ গুলিকে মৃত্মৃঢ় নাচাইতেছে ; মানবগাহমনির ই| কামিনী গণের সঙ্গে একটু একটু মিষ্ট রই করিতেছে ; নৌকার তলে প্রবেশ করির তোমার কানের কাছে মধুর সঙ্গীত কল্লিতেছে । তুমি মনে করিলে, বায়ু বড় ধীরপ্রকৃতি-বড় গষ্ঠার স্বভাব, বড় আড়ম্বর শুষ্ঠ, আবার সদানন্দ । সংসারে যদি সকলেই এমন হয় ৩ কি না হয় ! দে মোক খুলিয়া দে ! রোঁদ উঠিল— তুমি দেখিলে যে, বাঁচিরাজির উপরে রোঁদ অলিতেছে, সেগুলি পূৰ্ব্বাপেক্ষ একটু বড় বড় হইয়াছে—রাজ হংসগণ তাহার উপর নাচিয়া নাচিয়া চলিতেছে ; গাত্রমার্জনে অন্তমনা সুন্দরীদিগের মৃতকলসী তাহার উপর স্থির থাকিতেছে না, বড় নাচিতেছে ; S > কখনও কখনও ঢেউগুলা স্পদ্ধ করিয়া সুন্দরীদিগের কাধে চড়িয়া বসিতেছে ; আর যিনি তীরে উঠিয়াছেন, র্তাহার চরণপ্রাস্তে আছড়াইয়া পড়িতেছে— মাথ। কুটিভেছে—বুঝি বলিতেছে—“দেহি পদপল্লবমুদারম্ " নিতান্ত পক্ষে পায়ের একটু অলক্তকরাগ ধুইয়। লইয়। অঙ্গে মাখিতেছে। ক্রমে দেখিবে, বায়ুর ডাক একটু একটু বাড়িতেছে, আর সে জয়দেবের কবিতার মত কালে মিশাইয়া যায় না, আর সে ভৈরবী রাগিণীতে কানের কাছে মুকু বীণা বাজাইতেছে না । ক্রমে দেখিবে, বায়ুর বড় গর্জন বাড়িল—বড় হুহুঙ্কারের ঘটা ; তরঙ্গ সকল হঠাৎ ফুলিয় উঠিয়া মাথা মাড়িয়া আছড়াইয়া পড়িতে লাগিল, অন্ধকার করিল। প্রতিকুল বায়ু নৌকার পথরোধ করিয়৷ দাড়াইল, নৌকার মুখ ধরিয়া জলের উপর আছড়াইতে লাগিল— কখন বা মুখ ফিরাইয়া দিল—-তুমি ভাব বুঝিয়া পবনদেবকে প্রণাম করিয়া নৌক তীরে রাখিলে । শৈবলিনীর নৌকার দশ ঠিক এইরূপ ঘটিল। অল্প বেল হইলেই বায়ু, প্রবল হইল বড় নৌকা প্রতিকূল বায়ুতে আর চলিল না ; রক্ষকেরা ভদ্রহাটর ঘাটে নাঁক। রাখিল । ক্ষণকাল পরে নৌকার কাছে এক নাপিতানী আসিল । নাপি siনী সধবা, খাটে। রাঙ্গাপেড়ে শাড়ী পর।--শাড়ার রাঙা দেওয়া আঁচল আছে—হাতে আলুতার চুব ড্রী । নাপিতানী নৌকার উপরে অনেক কাল কাল দাড়ী দেখিয়া ঘোমটা টানিয়া দিয়াছিল । দড়ির অধিকারিগণ অবাক হইয়া নাপিতনীকে দেখিতেছিল । একটা চরে শৈবলিনীর পাক হইতেছিল এখনও হিন্দুয়ানী আছে-এক জন ব্রাহ্মণ পাক করিতেছিল । এক দিনে কিছু বিবি সাজা ষায় না । ফষ্টর জানিতেন সে, শৈবলিনী যদি না পলায় অথবা প্রাণত্যাগ না করে, তবে সে অবশু এক দিন টেবিলে বসিয়া যবনের কৃত পাক উপাদেয় বলিয়। ভোজন করিবে । কিন্তু এখনই তাড়াতাড়ি কি ? এখন তাড়াতাড়ি করিলে সকল দিক্‌ নষ্ট হইবে । এই ভাবিয়া ফষ্টর ভূতাদিগের পরামর্শমতে শৈবলিনীর সঙ্গে ব্রাহ্মণ দিয়াছিলেন । ব্রাহ্মণ পাক করিতেছিল, নিকটে এক জন দাসী দাড়াইয়া উদ্যোগ করিয়া দিতেছিল । নাপিতানী সেই দাসীর কাছে গেল ; বলিল, “হঁ৷ গ, তোমরা কোথা থেকে আসছ গা?” : চাকরাণী রাগ করিল,--বিশেষ সে ইংরেজের বেতন থায় —বলিল, “তোর তা কি রে মাগী ! আমরা হিল্লী দিল্লী মক্কা থেকে আসছি ।"