পাতা:বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাস গ্রন্থাবলী (প্রথম ভাগ).djvu/১২৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


३३. সব না বলিতেছি, ততক্ষণ অামার প্রাণ খাবি খেতেছে। তোমাকে পত্র না পড়াইলে, আমার আহার-নিদ্রা হুইবে ন;–ঘুৰণী রোগই বা উপস্থিম্ভ হয়।” ঐশচন্দ্র পত্র হস্তে লষ্টয়া চিন্তা করিয়া বলিলেন, যখন তোমাকে নিযেধ করিয়াছে, তখন আমি এ পত্র দেখিব না। কথাটা কি, তা শুনিতেও চাহিব ল । এখন করিতে হুইবে কি, তাই বল ।” ক কতে হবে এই, স্বৰ্যমুখীর বুদ্ধিটুকু গিয়াছে, ভার একটু বুদ্ধি চাই । বৃদ্ধি দেয়, এমন লোক আর কে আছে—বুদ্ধি ষ কিছু আছে, তা সতীশ বাবুর। তাই সতীশ বাবকে এস্কলার গোবিন্দপুর যেতে তার মামী লিখে পাঠিয়েছে । সতীশ বােব ততক্ষণ একটা ফুলদানি ফুলসমে ত উণ্টাইয় ফেলয়ছিলেন এবং তৎপরে দোষাতের উপর নজর করিতেছিলেন । দেখিয়া শ্ৰীশচন্দ্ৰ কহিলেন, “উপযুক্ত বৃদ্ধিদাতা বটে । তা যাঙ্গ তোক, এতক্ষণে বুঝিলাম—ভাজের বাড়ী মহাশয়ের নিমন্ত্রণ । সতীশকে যেতে হ’লেই সুতরাং কমলমণিও যাবে । ভা স্থৰ্যমুখীর কাণ কড়িটি না হারালে আর এমন কথা লিখবে কেন ?” ক । শুধু কি তাই ? সতীশের নিমন্ত্রণ, আমার নিমন্ত্রণ আর তোমার নিমন্ত্রণ । ঐ । অামার নিমন্ত্রণ কেন ? ক । আমি বুঝি একা যাব ? আমার সঙ্গে গাভু-গামছা নিয়ে যায় কে ? শ্ৰী। এ স্থৰ্যমুখীর বড় অন্যায়। শুধু গাভুগামছা বহিবার জন্য ষদি ঠাকুর জামাইকে দবকার হয়, তবে আমি দুদিনের জন্য একটা ঠাকুর জামাই দেখিয়ে দিতে পার । কমলমণির বড় রাগ হইল । সে ক্রকুট করিল, শ্ৰীশকে ভেঙ্গাইল এবং শ্ৰীশচন্দ যে কাগজখানায়ু লিখিতেছিল, তাই ছিড়িয়) ফেলিল । ঐশ হাসিয়। কহিল, “তা লাগতে এসে কেন ?” কমলমণি কৃত্রিম কোপসহকারে কহিল, “আমার খুসি, লাগবে! f শ্ৰীশচন্দ্রও কৃত্রিম *ख्यांबांद्भ খুসি, বলুবো f তখন কোপযুক্ত কমলমণি শ্ৰীশকে একটি কিল দেখাইল । কুন্দদন্তে অধর টিপিয়া ছোট হাতে একটি ছোট কিল দেখাইল । কিল দেখিয়া, শ্ৰীশচন্দ্র কমলমণির খোপ খুলিয়া দিলেন । তখন বদ্ধিতরোষা কমলমণি, শ্ৰীশচন্দ্রের দোয়াতের কালি পিক্‌দানিতে ঢালিয়া ফেলিয়া দিল । কোপসহকারে কছিলেন, বঙ্কিমচন্দ্রের গ্রন্থাবলী রাগে শ্ৰীশচন্দ্র দ্রুতগতি ধাবমান হুইয়া কমলমণির মুখচুম্বন করিলেন । রাগে কমলমণিও অধীর হইয়। ঐশচন্দ্রেব মুখচুম্বন করিল । দেখিয়া সতীশচন্দ্রের বড় প্রীতি জন্মিল । তিনি জানিতেন যে, মুখচুম্বন তাহার ইজারা মহল। অতএব তাহার ছড়াছড়ি দেখিয়া, রাজভাগ আদায়ের অভিলাষে মা’র জানু ধরিয়া দাড়াইয়া উঠিলেন এবং উভয়েরই মুখপানে চাহিয়া উচ্চৈঃস্বরে হাসির লহর তুলিলেন । সে হাসি কমলমণির কর্ণে কি মধুর বাজিল ! কমলমণি তখন সতীশকে ক্রোড়ে উঠাইয়া লইয়া ভরি ভূরি মুখচুম্বন করিল। পরে ঈশচন্দ্র কমলের ক্রেড় হইতে তাহাকে লইলেন এবং ভূর ভরি মুখচম্বন করিলেন । সতীশ বাবু এইরূপে রাজভাগ হাদীয় করিয়। যথাকালে অবতরণ করিলেন এবং পিতার স্বস্বর্ণ-য় পেন্‌সিস্ট দেখিতে পাইয় অপহরণমানসে ধাবমান হইলেন । পরে হস্তগত করিয়া উপাদেয় ভো | বিবেচনায় পেনসিলুটি মুখে দিয়া লেঙ্গন করিতে প্রবৃত্ত্ব হইলেন । কুরুক্ষেরের যুদ্ধকালে ভগদত্ত এবং অর্জুনে ঘোরতর যুদ্ধ হয় । ভগদত্ত অর্জন প্রতি অনিবাৰ্য্য বৈষ্ণবাস্ত্র নিক্ষেপ করেন ; অর্জুনকে তন্নিবারণে অক্ষম ভানিয়া ঐরুষঃ স্বয়ং বক্ষঃ পাতিয়া সেই অস্ত্র গ্রহণ করিম তাঙ্গার শমান্ত করেন । সেইরূপ কমলমণি ও ক্রীশচন্দ্র । এই বিষম যুদ্ধে, সতীশচন্দ্র মহাঙ্গ সকল আপন বদনমণ্ডলে গ্রহণ করায় যুদ্ধের শমত হুইল । কিন্তু ইহাদের এইরূপ সন্ধিবিগ্ৰহ বাদলের রাষ্টর মত — দণ্ডে দণ্ডে হুইত, দণ্ডে দণ্ডে যাইত । শ্ৰীশচন্দ্র তখন কহিলেন, “ত। সত্য সত্যই কি তোমায় গোবিন্দপুরে যেতে হবে ? আমি এক থাকিব কি প্রকারে ?” ক । ছোমাল সেন আমি এক থাকিতে সাধ তেছি । আমি ও সাপ, তুমিও যাবে । তা যাও, সকাল সকাল অফিস সারিয়া আইস, আর দেরী কর ত, সতীশে আমাতে দিকে দুজনে কঁাদতে বসবো । ঐ । আমি যাই কি প্রকারে ? অামাদের এই তিসি কিনিবার সময় । তুমি তবে এক মাও । কম । মায়, সতীশ ! আমরা দুই জনে দুইদিকে কাদতে বসি । মা’র আদরের ডাক সতীশের কাণে গেল—সতীশ অমনি পেনসিলভোজন ভ্যাগ করিয়া লহর তুলিয়া আহিলাদের তাপি হাসিল, সুতরাং কমলের এবার র্কাদ হলো না । তৎপরিবর্তে সতীশের মুখচুম্বন করিলেন —দেখাদেখি ঐশও তাহাই করিলেন। সতীশ আপনার বাহাদুরী দেখাইয়া অার এক লহুর তুলিয়া