বিষয়বস্তুতে চলুন

পাতা:বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস (বৈশ্য কাণ্ড, প্রথমাংশ).djvu/২৯২

উইকিসংকলন থেকে
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

২৯০ বঙ্গের জাতীয় ইতিহাস [ বৈশ্য-কাও ৷ মহারাজ লক্ষ্মণসেনের সভায় রাঢ়ীয় ব্রাহ্মণকুলীনগণের ২য় সমীকরণ হইয়া থাকিৰে । এরূপ- স্থলে ১১৬৯ খৃষ্টাব্দের পর এবং ১১৯৯ খৃষ্টাব্দের কিছুপূর্ব্বে যে ২য় সমীকরণ হইয়াছিল, তাহাতে সন্দেহ নাই । মহারাজ দনুজমাধবের সময় যখন চারিবার সমীকরণ হইয়াছিল, তখন স্বীকার করিতে হইবে যে তিনি অতি দীর্ঘকাল রাজত্ব করিয়াছিলেন। যখন কুলকার্য্যের ও বংশপর্যায়ের আদান প্রদান লইয়া তর্ক উপস্থিত হয়, সেই সময়ই সমীকরণ হইয়া থাকে। মহারাজ বল্লাল- সেন ৫০ ও লক্ষ্মণসেন ৩০ বর্ষ রাজত্ব করিয়াছিলেন, এরূপস্থলে গৌড়বিজয়ের ৪০ বর্ষ পরে অর্থাৎ ১২৪০ খৃষ্টাব্দে বিশ্বরূপের বিদ্যমানতা অসম্ভৰ বলিয়া মনে হইবে না । কেহ কেহ মনে করেন যে বিশ্বরূপের পর তাঁহার বংশধর না থাকায় কেশবসেন কিছুদিন রাজত্ব করিয়াছিলেন । তাই একখানি বিশ্বরূপের তাম্রশাসনের শেষাংশে তাঁহার নাম তুলিয়া সেই স্থানে কেশবসেনের নাম বসান হইয়াছে। তখন কেশবসেন অবশ্য অতি বৃদ্ধ হইয়া পড়িয়াছিলেন। তাম্রশাসনে তাঁহার রাজ্যাঙ্ক পাঠ করিলেও তিনি বহুদিন রাজ্য শাসন করিয়াছিলেন বলিয়া মনে হইবে না । যাহা হউক মোটামুটি ১২৪৫ হইতে ১২৫০ খৃষ্টাব্দ মধ্যে তাঁহার রাজ্যাবসান এবং তৎপুত্র দনুজমাধবের সিংহাসনারোহণকাল অবধারণ করিতে পারি । তারিখ-ই-ফিরোজসাহী নামক মুসলমান ইতিহাসে লিখিত আছে যে, দিল্লীশ্বর বলব যখন তুঘরিল, খাঁকে শাসন করিতে বঙ্গে আগমন করেন, তৎকালে ( ১২৮০ খৃষ্টাব্দে ) সুবর্ণগ্রামের অধিপতি দনুজরায় দিল্লীশ্বরকে জলপথে সাহায্য করিয়াছিলেন। পূর্ব্বে দনুজমাধবের রাজ্যকালের যে পরিচয় দিয়াছি, তদনুসারে পূৰ্ব্ববঙ্গাধিপ দমুজ-মাধবই যে মুসলমান ইতিহাসে দমুজরা নামে আখ্যাত হইয়াছেন, তাহাতে আর সন্দেহ থাকে না। বল্লালসেন ও লক্ষ্মণসেনের সভায় যেরূপ বঙ্গজ কায়স্থ কুলীনগণের সমীকরণ হইয়াছিল, সেইরূপ রাজা দনুজ মাধবের * সভাতেও কায়স্থ কুলীনগণের সমীকরণ হইয়াছিল। পূর্ব্ববর্ত্তী তাম্রশাসনসমূহে সেনবংশ চন্দ্রবংশীয় ক্ষত্রিয় বলিয়া পরিচিত হইলে? এ সময় সেনরাজবংশ কায়স্থ ও ন্যৈ সমাজে মিলিত হইয়া কায়স্থ ও বৈদ্যগোষ্ঠী বলিয়া সম্মানিত হইয়াছিলেন। কেবল তাহাই নহে, রাজ৷ দনুজমাধব প্ৰসিদ্ধ বঙ্গজ কুলীন পুরন্দর বসুর তৃতীয় কন্যার পাণিগ্রহণ করিয়া কায়স্থ বংশ উজ্জ্বল করিয়াছিলেন । দ্বিজ বাচস্পতির বঙ্গজ-কুলকারিকায় এ সম্বন্ধে এইরূপ প্রমাণ পাওয়া যায়— আধুনিক কুলগ্রন্থে দনুজ মাধবদের 'দমুজমন্দন' নামে খ্যাত, কিন্তু রাঢ়ীয় ব্রাহ্মণ ও বঙ্গজ কায়স্থগণের সুপ্রাচীন কুলগ্রন্থসমূহে সর্ব্বত্রই 'পনৌজামাধব' বা 'দমুজমাধব' নাম‍ই আছে। আইন-অবরী গ্রন্থে 'দনৌজা'র স্থলে কেবল “নৌজা” নামে গৃহীত হইয়াছে । এক সময়ে আমরা দনুজমাধব ও চন্দ্রদ্বীপের পমুজমর্দনকে অভিন্ন ব্যক্তি বলিয়া মনে করিয়াছিলাম। কিন্তু পঙ্গুজমর্দন দেবের সংপ্রতি ধে মুদ্রা আবিষ্কৃত হইয়াছে, তাহা হইতে আমরা বেশ বুঝিতেছি যে সমুজমাধব ও দমুজমর্দন অভিন্ন ব্যক্তি নহেন, দনুজমর্দন পলুজমাধবের শতাধিক বর্ষ পরবর্ত্তী ।