পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১২১২ রঘুনাথের প্রতি ভক্তি। বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । আমি আর রূপ তার জ্যেষ্ঠ সহোদর। আমা দোহা সঙ্গে তেহে রহে নিরন্তর ॥ আমা সভা সঙ্গে কৃষ্ণকথা ভাগবত শুনে। তাহার পরীক্ষা আমি কৈল দুই জনে। শুনহ বল্লভ কৃষ্ণ পরম মধুর। সৌন্দৰ্য্য মাধুৰ্য্য প্রেম-বিলাস প্রচুর ॥ কৃষ্ণ-ভজন কর তুমি আমা দোহার সঙ্গে। তিন ভাই একত্রে রহিব কৃষ্ণ-কথা-রঙ্গে । এই মত বার বার কহি দুইজন। আম দোহার গৌরবে কিছু ফিরি গেল মন। তোমা দোহার আজ্ঞা আমি কতেক লঙ্ঘিব। দীক্ষা-মন্ত্র দেহ কৃষ্ণ-ভজন করিব ॥ এত কহি রাত্রিকালে করে বিচারণ। কেমনে ছাড়িব রঘুনাথের চরণ ॥ সব রাত্রি ক্ৰন্দন করি কৈল জাগরণ । প্রাতঃকালে আমা দোহায় কৈল নিবেদন ॥ রঘুনাথের পদে মুঞি বেচিয়াছ মাথা। কাঢ়িতে না পারে মাথা পাঙ বড় ব্যথা ॥ (১) কৃপা করি মোরে আজ্ঞা দেহ দুই জন। জন্মে জন্মে সেবে রঘুনাথের চরণ ॥ রঘুনাথের পাদপদ্ম ছাড়ন না যায়। ছাড়িবার মন হৈলে প্রাণ ফাটি বাহিরায় ॥ তবে আমি দোহে তারে আলিঙ্গন কৈল । সাধু দৃঢ় ভক্তি তোমার কহি প্রশংসিল ॥ যে বংশ-উপরে তোমার হয় কৃপা-লেশ । সকল মঙ্গল তাহা খণ্ডে সব ক্লেশ ৷ গোসাঞি কহেন এই মত মুরারি গুপতে। পূৰ্ব্বে আমি পরীক্ষিল তার এই মতে ॥ সেই ভক্ত ধন্ত যে না ছাড়ে প্রভুর চরণ। সেই প্রভু ধন্ত যে না ছাড়ে নিজ-জন ॥. (১) যে মস্তক রঘুনাথের সেবায় উৎসর্গ করিয়াছি তাহা সেই সেব হইতে বিচুত করিতে বড় মনোব্যথা পাইব।