পাতা:বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৮০৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


So 8b বঙ্গ-সাহিত্য-পরিচয় । ঐ কাজি প্রভৃতির দের ডিক্ৰী সাব্যস্ত করিলেন ইহাতে ঐ বিধবা যাহাতে সে ডিক্ৰীজারি না হয় সৰ্ব্বপ্রকারে এমত অত্যাচার করিতে লাগিল অপর ঐ ডিক্ৰীজার করিতে কাজীর প্রতি হুকুম হইল তিনি ঐ স্ত্রীর প্রতি অত্যন্ত সারল্য ব্যবহার করিয়া কেবল যাহাতে ঐ সকল সম্পত্তি নষ্ট না করিতে পারেন এমত আচরণ করিলেন। কিঞ্চিৎকাল পরে ঐ বিধবা কএক কুমন্ত্রীর দের পরামর্শক্রমে ছয় লক্ষ টাকার দাওয়াতে কাজী ও মুফতি ঐ ভ্রাতৃপুত্রের নামে স্থগ্রিম কোর্টে নালিশ করিল তাহাতে ঐ ভ্রাতৃপুত্র এই জওয়াব দিল যে আমি সুপ্রিম কোর্টের এলাকার মধ্যে নহি এবং কাজী ও মুফতি এই জওয়াব দিলেন যে এই ফয়সল দেশের কৰ্ত্তার দের আজ্ঞানুসারে আমরা আপনার দের পদের উপলক্ষে করিয়াছি। কিন্তু এই সকল আপত্তি সুপ্রিম কোর্টের জজ সাহেবেরা কিছু মাত্র শ্রবণ না করিয়া ঐ আসামীর দের প্রতি তিন লক্ষ টাকা গুনাহগারী করিলেন ও নয় হাজার দুই শত আট টাকা খরচ দিতে হুকুম করেন। এই মোকদম উপস্থিত করণ সময়ে এক সারজন পাটনায় প্রেরিত হইল সে তথায় গিয়া প্রথমে ঐ ভ্রাতৃপুত্রকে গ্রেফতার করে এবং ঐ কাজী যেমন কাছারী হইতে ফিরিয়া আসিতেছিলেন তেমন তাহাকেও গ্রেফতার করিয়া তাহার স্থানে চারি লক্ষ টাকার জামিন চাহিল পাটনার কৌন্সেলী সাহেবের ইহাতে অত্যন্ত ভীত হইয়৷ এবং সুপ্রিম কোর্টের এতদ্রুপ কাৰ্য্য করাতে কি আদালতের কৰ্ম্ম কি রাজস্ব আদায়ের কৰ্ম্ম নিৰ্বাহ হইতে পরিবে না ইহা ভাবিয়া ঐ কাজীর জামিন হইয় তাহাকে মুক্ত করিলেন। কিন্তু আসামীর প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ডিক্ৰী হইলে এক ঝুণ্ড সিপাহী তাহার দিগকে গ্রেফতার করিয়া কলিকাতায় লইয়া গেল তাহাতে ঐ কাজী অত্যন্ত বাৰ্দ্ধক্য প্রযুক্ত পথি মধ্যেই পঞ্চভূ পাইলেন অন্তের কলিকাতায় পহুছিয়া জেহলথানায় কয়েদ হইল এবং ১৭৮১ সালে পালিমেণ্টের এক নূতন ব্যবস্তা ভারতবর্ষে না পহুছন পৰ্য্যন্ত তথায় তাহারা তদবস্থায় থাকিল। পরে ঐ বিধবা এই সকল ব্যাপারেতেও তৃপ্ত না হইয়া সুপ্রিম কোর্টে পাটনার কৌন্সেলী শ্ৰীযুত ল সাহেব এবং অন্ত দুই জন সাহেবের নামে কাজীর ডিক্ৰী সাব্যস্তকরণপরাধেতে অভিযোগ করিয়া মোকদম উপস্থিত করিল তাহাতে ঐ সুপ্রিম কোর্ট ল সাহেবের প্রতিকূলে ডিক্ৰী করিয়া পনের হাজার টাকা গুনাহগারীর হুকুম দিলেন এবং সেই টাকা তৎক্ষণাৎ কোম্পানির কোষ হইতে দেওয়া গেল । কিঞ্চিৎকাল পরে মুপ্রিম কোর্ট ফৌজদারী আদালতের কৰ্ম্মেও হস্ত নিক্ষেপ করিলেন। আমরা ইহার পূৰ্ব্বে ব্যক্ত করিয়াছি যে দেশের