পাতা:বাগেশ্বরী শিল্প-প্রবন্ধাবলী.djvu/২৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২৮৫
রূপ দেখা

লাগলো। নক্সা করতে মানুষ অনেক অনেক রেখা সন্ধান করে’ বার করে আনলে—যে রেখা জেগে দাড়িয়ে আছে, যে রেখা ঘুমিয়ে আছে সটান অঘোরে, যে রেখা আলুথালু বেশে কাদছে, যে রেখা শিউরে উঠেছে ভয়ে, যে রেখা ছলে উঠেছে আনন্দে, যে রেখা নুয়ে পড়েছে ভাবের হাওয়ায়, যে রেখা ঢেউয়ে চলেছে তালে তালে—এমনি কত কি রেখা যার অন্ত নেই। এরা সবাই মিলে রূপকে ঘিরে দাড়ালো সকোণ নিষ্কোণ নানা ভঙ্গিতে, রূপের পেয়ালার গায়ে গায়ে এর ছায়া ফেলে’ অলকা তিলকার মতো থাকলে কারিগরের দ্বারা, রূপ ও রেখার মিলন ব্যাপার এই পর্যন্ত এসে থামলে । রূপদক্ষ দেখে বল্লেন “এহ বাহ”, রূপ যে পিঠে বইতে থাকলে রেখাকে, একি হ’ল ! গোণা যায় না এত রেখা, রূপের বঁাশী শুনে মুগ্ধ তারা সখীর মতো ঘিরলো রূপকে এ এক শোভ, কিন্তু রূপদক্ষ বল্লেন “এহ বাহ”, রূপের সঙ্গে একাত্মা হ’য়ে এরা মিল্লো কই ? রূপের সঙ্গে মিলতে পারে যে রেখা তাকে খুজতে চল্লো মানুষ, যুগ যুগ ধরে সাধনার ফলে পেলে মানুষ রূপ-রেখার দেখা প্রতিপদের চাদের মতো যার রূপ।