চাণক, দক্ষিণেশ্বর, বরাহনগর, কলিকাতা, ইহার মধ্য দিয়া প্রবাহিত হইয়া ইউরোপীয় কীর্ত্তির প্রতিবিম্ব বক্ষে ধারণ করিতেছেন, তেমনি বাঙ্গালা কবিতা অধুনাতন ইংরাজীতে কৃতবিদ্য বাঙ্গালা কবিদিগের গ্রন্থে ইউরোপীয় সুন্দর, কিন্তু বঙ্গ প্রকৃতি-বিরোধী অস্বাভাবিক ভাবের প্রতিবিশ্ব বক্ষে ধারণ করিতেছে। গঙ্গা যেমন কলিকাতার দক্ষিণে ক্রমে প্রশস্ত হইয়া মহাকল্লোলসমন্বিত বেগে সমুদ্রসমাগম লাভ করিয়াছেন, তেমনি বাঙ্গালাকবিতা সংস্কৃত ও ইংরাজী, উভয় ভাষার সাহায্যে ভবিষ্যতে কত বিশাল ও ওজস্বী হইয়া সমীচীনতা লাভ করিবে, তাহা কে বলিতে পারে?
সাধারণ পদ্যবিভাগ ছাড়িয়া দিয়া এক্ষণে আমরা তাহার একটি বিশেষ শাখা অর্থাৎ গীতিকাব্যের বিবরণে প্রবৃত্ত হইতেছি। রামপ্রসাদসেনের পর গীতরচনায় নিধিরাম গুপ্ত প্রসিদ্ধিলাভ করেন। ইহাঁর প্রণীত গ্রন্থের নাম গীতরত্ন গ্রন্থ। উহা সচরাচর “নিধুর টপ্পা” নামে প্রসিদ্ধ। নিধুবাবু ভারতচন্দ্রের জীবদ্দশাতেই জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন। নিধুবাবু ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির অধীনে একটি বাণিজ্যাগারে কর্ম্ম করিতেন। কথিত আছে যে, তিনি ঐ বাণিজ্যাগারে যে ডে-বুক রাখিতেন, তাহাতে এক দিন একটি টপ্পা লিখিয়াছিলেন। নিধুবাবুর রচিত গীতে মধ্যে মধ্যে চমৎকার ভাব আছে:―
“নির্ভয় শরীর মোর,
উল্লাসিত অন্তর,
হৃদয়ে উদয় সঙ্গা প্রেম পূর্ণচন্দ্র।”