লছিমা দেবীর সহিত বিদ্যাপতির প্রসক্তি ছিল এবং লছিমাকে না দেখিলে তাঁহার কবিতা নিঃসৃত হইত না। রাজা এই বিষয় অবগত হইয়া সন্দেহভঞ্জনার্থ মধ্যে মধ্যে বিদ্যাপতিকে গৃহবদ্ধ করিয়া কবিতা রচিতে বলিতেন, বিদ্যাপতি তাহাতে অসমর্থ হইলে লছিমা কার্য্যান্তর-ব্যপদেশে ঐ গৃহের গবাক্ষপথে উপস্থিত হইয়া দেখা দিতেন এবং অমনি বিদ্যাপতির মুখ হইতে কবিতা নিঃসৃত হইত। এইরূপে যে সকল কবিতা রচিত হয়, তাহা অসম্পূর্ণ ছিল। যাহা হউক, রাজা ইহাতে পরম ক্রুদ্ধ হইয়া বিদ্যাপতিকে শূলে দেন। বিদ্যাপতি শূলবিদ্ধ হইয়াও অকস্মাৎ লছিমাকে তথায় দর্শন ও গীতার্দ্ধ রচনা করিয়া প্রাণত্যাগ করেন।”[১] এই আখ্যান অবিশুদ্ধরূপে ইতালী দেশীয় মহাকবি দরিদ্র ট্যাসো এবং তাঁহার প্রিয়তমা অতুল ধনশালী সুমহৎ এষ্টে বংশীয় রাজকুমারী লিয়োনারার গল্প স্মরণ করিয়া দেয়। কিন্তু ইহা সত্য বলিয়া বোধ হয় না। বৈষ্ণবদিগের মধ্যে এই প্রবাদ অত্যন্ত প্রচলিত আছে যে, কবি বিদ্যাপতি একজন পরম সাধক ছিলেন। তাঁহারা বলেন যে, তিনি তাঁহার অন্তিমকাল উপস্থিত মনে করিয়া ভাগীরথীনীরে প্রবিষ্ট হইয়া প্রাণত্যাগ করিবার মানসে তাহার তীরে গমন করিতেছিলেন। বাঢ় নামক স্থানে চলৎশক্তিরহিত হইয়া পড়াতে গঙ্গাকে তথায় আগমন করিতে প্রার্থনা করিয়াছিলেন। গঙ্গা তথায় আগমন করিয়া তাঁহার
- ↑ রামগতি ন্যায়রত্নের বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব। —(দ্বিতীয়ভাগের ভূমিকা)