জীবনচরিত—সর উইলিয়ম হর্শেল S8) নিউটনের চরিত্র সাধারণ লোকের চরিত্রের হ্যায় নহে। উহ। এমন সুন্দর যে, চরিতাখ্যায়ক ব্যক্তি লিখিতে লিখিতে পরম পরিতোষ প্রাপ্ত হন । আর, যে উপায়ে তিনি মনুষ্যমণ্ডলীতে অবিসংবাদিত প্রাধান্ত প্রাপ্ত হইয়াছিলেন, তাহা পৰ্য্যালোচনা করিলে, মহোপকার ও মহাৰ্থ লাভ হইতে পারে। নিউটন অত্যুৎকৃষ্টবুদ্ধিশক্তিসম্পন্ন ছিলেন ; কিন্তু তদপেক্ষায় নৃনবুদ্ধিরাও তদীয়জীবনবৃত্তপাঠে পদে পদে উপদেশ লাভ করিতে পারেন। তিনি অলৌকিক বুদ্ধিশক্তির প্রভাবে গ্ৰহগণের গতি, ধূমকেতুগণের কক্ষ, সমুদ্রে জলোচ্ছাস, এই সকল বিষয়ের মীমাংসা করিয়াছেন। নিউটন আলোক ও বর্ণ এই দুই পদার্থের স্বরূপ নির্ণয় করিয়াছেন। তাহার পূর্বে এই বিষয় কোনও ব্যক্তির মনেও উদিত হয় নাই । তিনি সাতিশয় পরিশ্রম ও দক্ষতা সহকারে অদ্ভুত বিশ্বরচনার যথার্থ তাৎপৰ্য্য ব্যাখ্যা করিয়াছেন ; আর, র্তাহার সমুদয় গবেষণা দ্বারাই স্থষ্টিকৰ্ত্তার মহিমা, প্রজ্ঞা ও অনুকম্প প্রকাশ পাইয়াছে। ঈদৃশলোকোত্তরবুদ্ধিবিদ্যাসম্পন্ন হইয়াও, তিনি স্বভাবতঃ এমন বিনীত ছিলেন যে, আপন বিদ্যার কিঞ্চিম্মাত্র অভিমান করিতেন না । তাহার এই এক সুপ্রসিদ্ধ কথা ধরাতলে জাগরূক আছে, আমি বালকের ন্যায় বেলাভূমি হইতে উপলখণ্ড সঙ্কলন করিতেছি, জ্ঞানমহার্ণব পুরোভাগে অক্ষুণ্ণ রহিয়াছে। সর উইলিয়ম হর্শেল কোপনিকসের সময়বিধি টাইকে ব্রেহি, কেপ্লর, হিগিন্স, নিউটন, হেলি, ডিলাইল, লেলণ্ড ও অন্যান্য সুপ্রসিদ্ধ জ্যোতির্বিদবর্গের প্রযত্ন ও পরিশ্রম দ্বারা জ্যোতিবিদ্যার ক্রমে ক্রমে উন্নতি হইয়া আসিতেছিল। পরে, যে চিরস্মরণীয় মহানুভাবের আবিক্রিয় দ্বারা উক্ত বিদ্যার এক কালে ভূয়সী শ্ৰীবৃদ্ধি হয়, এক্ষণে তদীয় জীবনবৃত্ত লিখিত হইতেছে। উইলিয়ম হশেল, ১৭৩৮ খৃঃ অব্দের ১৫ই নবেম্বর, হানোবরে জন্মগ্রহণ করেন । র্তাহার। চারি সহোদর ; তন্মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন। তাহার পিতা তুর্য্যাজীবব্যবসায় দ্বারা জীবিকানির্বাহ করিতেন। সুতরাং, র্তাহারাও চারি সহোদরে, উত্তর কালে ঐ ব্যবসায়ে ব্ৰতী হইবার নিমিত্ত, তাহাই শিক্ষা করিয়াছিলেন । অল্প বয়সে বিদ্যানুশীলনবিষয়ে হশেলের সবিশেষ অনুরাগ প্রকাশ হওয়াতে, তদীয় পিতা তাহাকে শিক্ষা দিবার নিমিত্ত
পাতা:বিদ্যাসাগর গ্রন্থাবলী (শিক্ষা ও বিবিধ).djvu/১৬৩
অবয়ব