পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৮২ বিভূতি-রচনাবলী সেই তাদের ঘরখানা, জানালা দিয়ে একটুখানি দেখা যাচ্চে, মুগের ডালের হাড়ি, বিছানার -ৰোণটী ...উঃ! বিছানাটা দেখে ওর গা কেমন ধিন্‌ ধিন্‌ করে উঠলো। এই যে খানিকটা মাত্র আগে সে নিজেকে সতী সাধবী, স্বামী-অনুরক্তা, পরম পবিত্র, আনন্দময়ী রূপে বর্ণনা করে মধুর আত্মপ্রসাদ লাভ করেছিল, কোথায় গেল ওর সে আত্মপ্রসাদের পবিত্রতা ও নির্ভরশীলতা! সে ঐ বিছানায় একসঙ্গে শোয়নি নেত্যদ্বার সঙ্গে ? এই পুরু ঠোঁটওয়াল, চোখের কোণে কালি ইন্দ্রিয়াসক্ত নেত্যদ, যার মুখ দিয়ে এই মুহূর্তে এখনি মদের গন্ধ বার হচ্চে, যার অত্যাচারে তাকে আফিং খেয়ে যন্ত্রণায় ছট্‌ফট্‌ করে মরতে হয়েছিল। ওই তো সেই তক্তাপোশ, যার ওপরে সে ছট্‌ফটু করেছিল আফিং খেয়ে। আশা চমকে শিউরে উঠতেই নেত্যনারাণ দাত বার করে বল্লে—বলি, আর একটু চা দেবে, না একেবারে গরম গরম ভাতই বাড়বে ? বড় রাত হয়ে গেছে । খেয়ে-দেয়ে চলো শুয়ে পড়া যাকৃ। যে শীত পড়েচে ! & আশা কাঠ হয়ে বসে রইল। এ কোথা থেকে কোথায় সে এসে পড়ল। অদুষ্টের কি নিৰ্মম পরিহাস এ ! নেত্যনারাণ বল্লে—সত্যি, আমিও যে দিনকতক তোমায় খুজে খুজে বেড়িয়েচি কত ! তারপর— আশার মুখ দিয়ে আপনা-আপনিই বেরুলো—কি তারপর ? - —তারপর কে যেন টেনে নিয়ে এল আমায় এখানে । উঃ, সে কি আকর্ষণ ! আমি বলি কোথায় যাচ্চি—তারপরেই দেখি আমি একেবারে বাড়াউলি মাসীর বাড়ীতে মানিকতলায় । একেবারে তোমার কাছে । চল গিয়ে শুইগে যাই ; রাত হোল অনেক । বিরক্তি, ভয়, হতাশা ও অপবিত্রতার অনুভূতিতে আশার সর্বশরীর যেন জলে উঠলো আগুনের মত। সে যে এইমাত্র তার শ্বশুরবাড়ীর সেই পবিত্র কোঠাবাড়ীতে তার স্বামীর সঙ্গে ছিল—প্রথম বিবাহিত জীবনের সেই স্মৃতিমধুর রাত্রির ছায়ায় ; কেন এই অপবিত্র কলঙ্কিত শয্যাপ্রাস্তে তার আহবান ? এ কি নিষ্ঠুরতা। ও বলে উঠলো—আমি যাবো না । তুমি তো আমায় ফেলে বাড়ী পালিয়ে ছিলে ? কেন আবার এলে তবে ? আমায় ছেড়ে দাও । আমি যাবো না ঘরে । নেত্যনারাণ বাঝালো স্বরে বল্লে—যাবে মা শুতে ? তবে কি সারারাত এখানে বসে থাকতে হবে নাকি ? 鹼 —আমি আর মানিকতলায় নেই—আমরা মরে গিয়েচি। তুমি আর আমি দুজনেই। চলে যাও তুমি আমার কাছ থেকে—তুমিও মরে গিয়েচে । নেত্যনারা অবাক হয়ে বল্ল—কি যে বলো তুমি । ঠাট্টা করচো নাকি ? এই স্থাখে৷ সেই মানিকতলায় আমাদের ঘর, চিনতে পারচো না ? যাবে কোথায় নিজেদের আস্তান ছেড়ে ? ক্ষেপলে নাকি ? চলো—চলো— আশা কলের পুতুলের মত ঘরের মধ্যে গিছে বিছানাটিতে শুয়ে পড়লো। ওর সর্বশরীর