পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৪২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S3 বিভূতি-রচনাবলী । শ্বশুরবাড়ী ভালো লাগলো না বটে, তবে স্বামীকে কিছুটা ভালো লাগলো এই খাবার খাওয়া থেকে । উলোর জাতের মত বড় মেলা এ অঞ্চলে নেই, সে সময় ময়রার দোকানে কাজ বেশি । উনি ফেরেন অনেক রাতে । হাতে বড় বড় ঠোঙায় খাবার ভর্তি । উনি হেসে বলতেন—খাও, থাও, খুব খাও—এসো দুজনে পেট ভরে থাই । একদিন কি করে খুড়শ্বশুর টের পেলেন লুকিয়ে খাবার আনার ব্যাপারটা। এ নিয়ে খুব ঝগড়া হলো বাড়ীতে। আমাকে আর ওঁকে যথেষ্ট অপমান গালি-গালাজ সহ করতে হলো । 蠍 খুড়শাশুড়ী বল্লেন--অমন নোলায় সাত বাট মারি । লুকিয়ে লুকিয়ে খাবার খেয়ে দোকানটা শেষ করে দিলে গা ! এমন অলক্ষ্মী বোঁ তো কখনও দেখিওনি, শুনিওনি। লজ্জাও করে না গুরুজনকে লুকিয়ে লুকিয়ে খেতে । স্বামীকে রাত্রে বল্লাম—আর ওসব এনে না । দ্যাথো তো কি কাণ্ড ৱাধালে ! স্বামী বল্লেন—না, আনবে না । আমায় কি মাইনে দেয় কাকা ? বিনি মাইনের চাকর করে তো রেখেচে । পেটে দুটো খাবো না ? ঠিক আনবো লুকিয়ে, তুমি দেখো। কেমন করে ধরবে কাকা তা দেখবো । স্বামীর শরীর ভালো নয় অথচ ঘোর পেটুক । আমার কথা শুনতেন না। খাবার চুরি বন্ধ হলো না। রোজ রাত্রে একগাদা বাসি লুচি আর রসগোল্লার রস আনেন। নিজে খান, আমাকেও যথেষ্ট দেন । ওঁর পেটের অস্থখ ছাড়ে না। আমার বারণ শোনেন না মোটে । বলেন-খেয়ে যা উঠিয়ে নিতে পারি। কাকা একপয়সা উপুড়-হাত করবে না । আমি বল্লাম—আমি বাপের বাড়ী যাবে ভাষাঢ় মাসে, আমায় নতুন কাপড় কিনে দেবে না ? উনি ঠোঁট উন্টে বল্পেন—কে দেবে ? কাকা ? তা দেখে আর বঁাচলাম না ! —সুত্যি আমার নতুন কাপড় হবে না ? বাপের বাড়ীতে কিন্তু সবাই নিন্দে করবে। —যদি আমি দিতে পারতাম, সব হোত । আমার কি ইচ্ছে করে না তোমায় কাপড় দিতে ? কোথায়ু পাবো ? —তাই তো । অনেকের নিন্দে শুনতে হবে তাই ভাবচি । আষাঢ় মাসে বাপের বাড়ী এলাম । স্বামীও আমার সঙ্গে এলেন । তাকে দেখে গ্রামের সমবয়সী মেয়েরা নানা রকম নিন্দাবাদ করতে লাগলো। আমায় একদিন রায়বাড়ীর মেজগিনী বল্লেন-হ্যা পাচী, জামাই নাকি তাড় ঘোটে ময়রার দোকানে ? আমি অতশত বুঝি নে, বল্লাম—হঁ্যা। খুব ভালো খাজা তৈরি করে। সবাই হাতের স্বখ্যাতি করে মাসীমা । - মেজগিল্পী হেসেই খুন ! তার বড় পুত্রবধু যে বাপের বাড়ী থেকে আসতে চায় না, বাপের বাড়ীর গ্রামে কোন প্রতিবেশী ছেলের সঙ্গে প্রণয়াসক্ত, এসব কথা তিনি তখন তুলে গেলেন।