পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/২৮৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\క్షి বিভূতি-রচনাবলী —ডেকে জিজ্ঞাসাও করলে না কানুনগে। আমি যেতে মাত্রই কামুনগো একেবারে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাড়াল, বললে, ‘আস্থন জমিদার মশায়, আস্থন ? সাঁতবেড়ের দরুন সেই জমার যে কাগজপত্র গোলমাল হয়েছিল বুঝলি তো --তা বলতেই কানুনগো মুহুরীদের সব বকে উঠল, বললে—‘রায় মশায়, আমি না থাকলেই এরা সব গোলমাল করে ফেলে ; আপনি বস্থন, আমি বন্দোবস্ত করে দিচ্ছি।”—সে খাতির কী ! স্ত্রীর ডাগর চোখের প্রশংসমান দৃষ্টিতে উৎসাহিত হইয়া হরিচরণ অধিকতর ভিত্তিহীন কি একটা ফাদিতে যাইতেছিল, এমন সময় তাহাদের বাহিরের বাড়ীর সদর দরজায় কে যেন ঘ দিতেছে শোনা গেল । * বীণাপাণি বলিল—ওগো, দরজায় কে যেন ঘা দেয় ? হরিচরণ বলিল—কই না, এত রাত্রে কে ঘা দেবে ? সঙ্গে সঙ্গে পুনরায় আঘাতের শব্দ ও কার গলার আওয়াজ পাওয়া গেল। বীণাপাণি বলিল—ঐ যে কে ডাকছে, দেখ না একবার ? s - হরিচরণ শঙ্কিত হইল। পূর্বেও যে আঘাতের শব্দ সে না শুনিয়াছিল এমন নহে। কিন্তু এই শুনিতে না পাওয়ার ভান করিবার মূলে একটু প্রত্নতত্ত্ব নিহিত আছে । আজ তিন বৎসর পূর্বে ঠিক এই পৌষ মাসেই সে রামনারায়ণপুরের হাটে এক কাবুলী আলোয়ান বিক্রেতার নিকট ধারে দশ টাকা মূল্যের একটা আলোয়ান খরিদ করিয়াছিল। হতভাগ্য কাবুলীওয়ালা দুই বৎসর যাবৎ ইাটাইটি করিয়াও এ পর্যন্ত টাকা পাওয়া তো দূরের কথা, হরিচরণের সাক্ষাৎ পর্যন্ত পায় নাই । হরিচরণ শঙ্কিত চিত্তে সামনের উঠানে গেল। সেই কাবুলীওয়ালাটা এত রাত্রে আসে নাই তো ! বিচিত্র কি ! সঙ্গে কি সে তাহার দুই একজন দেশভ্রাতাদের আনিয়াছে ? তাহা হইলে উপায় ? সন্তপণে বাহিরু-বাটীর দরজার নিকট যাইতে যাইতে হরিচরণ শুনিতে পাইল দরজার বাহির হইতে বাংলায় কে উচ্চৈঃস্বরে বলিতেছে—‘রায় মশায় কি বাড়ী আছেন ? যাক বাচ। গেল। তাহা হইলে কাবুলাওয়ালাটা নয়। 漫 হরিচরণ খিল খুলিয়া দিল । দেখিল বাহিরে একজন অপরিচিত ভদ্রবেশী প্রৌঢ় দাড়াইয়া । প্রৌঢ় জিজ্ঞাসা করিলেন--এইটেই কি হরিচরণ রায় মশায়ের বাড়ী ? হরিচরণ বলিল—আজ্ঞে আমারই নাম । প্রৌঢ় বলিলেন—ত বেশ । বড় সন্তুষ্ট হলাম। আমি আসছি কলকাতা থেকে—এই ট্রেনেই আসছি। তোমার শ্বশুর রামজীবনবাবু আমার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তার ওখানে একসময় আমার খুব যাতায়াত ছিল । তবে এখন আমিও বাইরে বাইরে থাকি, এইজন্তে ততটা আর— । তা বেশ বেশ, বড় সন্তুষ্ট হলাম বাবাজীবনকে দেখে । বীণা এখানেই আছে তো? . হরিচরণ বলিল-আজ্ঞে হ্যা, তা আথন বাড়ীর মধ্যে।