পাতা:বিভূতি রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড).djvu/৩০৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপলখও ףש রাস্তায় ওকে পুলিশে ধরলে না। বেলা দুটোর সময় বাড়ী ফিরে ওরা দেখলে পুলিশ ফাদার অপেক্ষা করছে ওদের পাড়ার বড় মোড়লের বাড়ী । লোক গিজগিজ করছে। ডাকইাক, সাক্ষীর জবানবন্ধি হতে বিকেল হয়ে গেল। শাইলিপাড়া গ্রামের সবাই একুবাক্যে রোগার সামনে বললে ইচুর দ্বারা এ খুন হয়েছে তার কেউ বিশ্বাস করে না। জবানবন্দিতে আরও প্রকাশ পেজ, ইচুর স্ত্রী নিমি প্রায়ই রাত্রে স্বামীকে ঘুম পাড়িয়ে বাড়ী থেকে বেকত। গ্রামের মধ্যে তার প্রেমিকের অভাব ছিল না । প্রেমের প্রতিদ্বন্দ্বিতাও চলত। দারোগ ইচুকে সামনে ভাকিয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করলেন। শেষে বললেন—তুমি কিছু জানতে না যে, তোমার স্ত্রীর চরিত্র খারাপ ? —ন, দ্বারোগীবাবু । কিছু জানি নে মুই। —জান এতে চালান দিলে তোমার ফালি হতে পারে ? —আল্লার ঝদি তাই মজি হয়, মোর মনে এতটুকু খেদ থাকবে না দ্বারোগাবাবু—তেনার বা মর্জি তাই তিনি করুক। মুই খুশি ছাড়া অখুশি হব না। বুড়ো হাফেজ মণ্ডল এগিয়ে এসে দৃঢ়কণ্ঠে সোজা হয়ে দাড়িয়ে বললে—কাকে কি বলছেন বাৰু? •আল্লার কথা উঠলি ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ে। অমন লোক এ দিগরে নেই। দারোগাবাবু বললেন—তুমি কাল রাত্রে কোথায় ছিলে ? —ঘরেই শুয়ে ছেলাম। মড়ার মত ঘুম এসেছে চকি, সনেকপুরের বিলি জল খাটেলাম সারাদিন । ওনারা ডাকলে সকালবেলা, তখন মুই ঘুম ভেঙে উঠি । দারোগাবাবু অভিজ্ঞ লোক, পুলিশের চাকরি অনেকদিন করছেন। কে সাধু কে বদমাইল চেনেন, ইচুর দ্বারা এ কাজ হয়নি ওর মুখের দিকে চেয়ে তখনই বিদ্যুতের লেখা বাণীর মত র্তার মনের মধ্যে এ সত্য উদয় হোল । সেই সন্ধ্যায় ইচু নামাজ সেরে ভাঙা খালি ঘরে ঢুকতেই ওর প্রাণটা হা হা করে উঠল। —নিমি, ও নিমি, মোরে ভাত এনে দে r সে আপন মনেই ডাকল। নিমিকে সে কত ভালবাসত, যে যা বলে ওসব সে বিশ্বাস করে না। বিচার করবার সে কেউ নয়। নিমিকে সে ক্ষমা করেছে । —নিমি, ওঁ নিমি, মোরে ভাত এনে দিলি নে ? 最 পরদিন গ্রামের লোক সকালে উঠে ইচুকে আর তার ঘরে দেখতে পেলে না। সে একবস্ত্রে বাড়ী থেকে বেরিয়ে গিয়েছে কখন । গৃহস্থালির কলসী, ইড়িকুড়ি, নারকোলের মালা, দু-একখানা পিতলের ঘাটবাটি সব ফেলে রেখে গিয়েছে । மு খলসেখালি গ্রামের প্রান্তে নদীতীরে তেঁতুলগাছের তলায় পর্ণকুটিরে একজন ফকির কোখা থেকে এসেছে। সন্ধ্যায় আকাশের নীলপটে মেঘের রচনার সঙ্গে সঙ্গে সে খেজুৱচটা বিছিয়ে নদীর ধারে যখন নামাজ পড়ে, তখন লোকে সবিস্ময়ে তার মুখে দেখেছে এক অদ্ভুত আলো, প্রভাতী তারার মৃদ্ধ জোৎস্নার মত। এক সন্ধ্যা ভিক্ষাই তার উপজীবিকা। সবাই ওকে মানে, ভক্তি করে। নাম ওর ইচু ফকির।