পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/১৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ՆՂ/օ ীি-কন্যার সঙ্গে ঝগড়া করে গৃহত্যাগ করেন এবং অবশেষে বিহারের এক স্টেশনের মুসাফিরখানায় তার হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু ঘটে। ‘অবিশ্বাস্ত’ গল্পটিতেও দেখি হঠাৎ দুর্ঘটনায় হাজুর মৃত্যু হয়েছে। খেলা’ গল্পটি সব চেয়ে মর্মাস্তিক। মতিলাল ছেলেকে নিয়ে নদীর ঘাটে স্বান করতে গিয়ে আগে ছেলেকে নাইয়ে ডাঙ্গায় দাড় করিয়ে রেখে তারপর নিজে নামল নদীতে স্নান করতে আর ফিরল না । খরস্রোতা বর্ষার ঢল-নামা নদীর টানে কোথায় তলিয়ে গেল । ‘জাল’, ‘হরিকাকা’, ‘আর্টিস্ট’, ‘সীতানাথের বাড়ী ফেরা' প্রভৃতি গল্পগুলি প্রত্যেকটি স্বসম্পূর্ণ নিটোল মুক্তোর মত ভাবে-ভাষায় অপরূপ। ‘কুশল পাহাড়ী" গল্পটি একদিক থেকে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এরি মধ্যে বিভূতিভূষণ যেন র্তার শেষ বাণী দিয়ে গেছেন। তার জীবনদর্শনের স্বম্পষ্ট স্বাক্ষর রেখে গেছেন এই গল্পের সংক্ষিপ্ত পরিসরের মধ্যে। সুন্দরগড় আরণ্যপ্রকৃতির লীলাভূমি। সেখানে বেড়াতে গিয়ে যে সাধুর দর্শন পান তার জবানীতেই তিনি যেন অন্তরের শেষ বাণী নিবেদন করে গেছেন।–“কুশল পাহাড়ীর শৈলশ্রেণী ভৈরবথানকে চারিদিকে ঘিরেছে। বহু পুরাতন পাথরের চাই ! সব যেন এখানে স্বপ্রাচীন—প্রাচীন সাধু, প্রাচীন শালবৃক্ষ, প্রাচীন অরণ্যভূমি। মনে হ’ল এ পরিবেশ ছেড়ে আর কোথাও যাচ্ছিনে। থেকে যাই এখানেই। ঋষি সাধু-প্রবক্তাদের জ্যোতির্বাহিনী এখানেই ; এ জিনিস আর কোথাও পাব না--স্বন্দরগড় রাজ্যের এই স্থদুর বনভূমিতে ষে বৃদ্ধ, পিতৃবং স্নেহশীল, ব্ৰহ্মজ্ঞ ঋষির পাদমূলে এসে আজ পৌছেচি তিনিই মনে শাস্তি এনে দেবেন ! পথেঘাটে এ দুর্লভ জিনিসের সন্ধান মেলে না।” আরো মুগ্ধ হলাম যখন সাধুজী ঈশোপনিষদের একটা শ্লোক উচ্চারণ করে তার ব্যাখ্যা করতে লাগলেন। বার বার বলতে লাগলেন : “কবির্মণীষী পরিভূঃ সয়ন্থ।” শ্লোকটির মধ্যেকার 'কবি' কথাটার অর্থ বৃদ্ধ। সাধুর মুখের সেই মধুর গভীর বাণী আজও কানে বাজছে :– “কবিই তিনি বটেন বাবা । এখানে বসে বসে দেখি। এই শালগাছটাতে ফুল ফোটে, বর্ষাকালে পাহাড়ে ময়ুর ডাকে, ঝর্ণ দিয়ে জল বয়ে যায়, তখন ভাবি কবিই বটে তিনি। আমি কিছুই পাইনি বাবা ! ভড়ং দেখছো এসব বাইরের। ভেতরের জ্ঞান, এসব কিছু হয়নি। তবে দেখতে চেয়েচি তাকে, তার এ কবি-রূপ দেখে ধন্য হয়েছি।” এই উক্তি থেকেই বিভূতিভূষণের চরিত্রের অনেকখানি উদঘাটিত হয়। বনজঙ্গল, প্রকৃতির প্রতি তার যে আকর্ষণ তা ছিল যেন মন্দিরে ভক্তের পূজা দিতে যাওয়ার মত প্রাণের আকৃতিতে ভরা। প্রকৃতির মধ্যে দিয়ে তিনি তার স্রষ্টার মূর্তিকে চাকুষ করতেন । যো দেবোইরে যোংঙ্গ যে বিশ্বং জুবনমাৰিবেশ ।