পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৪৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


२२br বিভূতি-রচনাবলী ভড়মশায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলিলেন, আনন্দে হাতে-পায়ে যেন বল পাইলেন। বঁচি গেল, মনিবের তাহ হইলে জেল হয় নাই ! সেই ছবি-তোলার কাজেই লাগিয়া আছেন, বোধহয় চাকরী লইয়! থাকিবেন। মেয়েটি একটুকরা কাগজে ঠিকানা লিথিয় তাহার হাতে দিয়া বলিল-ট্রাম থেকে নেমে বঁrদিকের রাস্ত ধরে খানিকটা গেলেই পাবেন। দেখবেন, লেখা আছে ভাশনাল ফিল্ম কোম্পানীর নাম, গেটের মাথায় আর দেয়ালের গায়ে। রাস্তায় পড়িয়া পথ স্থাটিতে-ইটিতে কিন্তু ভড়মশায়ের মনে আননোর ভাবটা আর রহিল না । মনিব জেলে যান নাই—আবার সেই ছবি-তোলার কাজই করিতেছেন, অথচ এই এক বৎসরের মধ্যে একবার স্ত্রীপুত্রের খোজ-খবর করেন নাই, এ কেমন কথা ? এস্থলে আনন্দ করিবার মত কিছু নাই, বরং ইহার মূলে কি রহিয়াছে, তাহ দেখিয়া যাওয়াটা দরকার। ভড়মশায়ের মন বেশ দমিয়া গেল । দমিয়া গেলেও, সেই মন লইয়াই অগত্য পথ চলিতে-চলিতে একসময় তিনি ট্রামে উঠিয়া পড়িলেন। ট্রাম যথাসময়ে টালিগঞ্জ-ডিপোয় আসিয়া পৌছিল। অন্যান্য সহযাত্রীরা একেএকে নামিয়া যাইতেছে দেখিয়া ভড়মশায়ের হশ হইল, র্তাহাকেও এবার নামিতে হইবে। ভড়মশায় ট্রাম হইতে রাস্তায় নামিয়া আবার স্থাটিতে শুরু করিলেন। মেয়েটির নির্দেশমত বঁী-দিকের পথ ধরিয়া হাটবার সময় দেখিলেন, ভিন্ন-ভিন্ন ছোট-ছোট দল যে সব কথাবাৰ্ত্ত কহিতে কহিতে চলিয়াছে ঐ পথে, তাহাদের যুদ্ধগুঞ্জনে বেশ বুঝা যাইতেছে যে তাহারা সকলেই এখন ভড়মশায়ের লক্ষ্য-পথের পথিক। যে কোনো কাজের জন্যই যাক না কেন, তাহারাও চলিয়াছে ঐ স্টুডিওর উদ্দেশে । কিছু পথ যাইতেই চোখে পড়িল, সামনে অনেকখানি জায়গা করোগেট টিন দিয়া ঘেরা মন্ত বাগান, আর সেই বাগানের কাছে পৌঁছিয়াই তিনি নিশ্চিত বুঝিলেন যে, তাহার ঈপ্সিত স্থানে আসিয়া গিয়াছেন। ঐ বাগানের ফটক। ফটকের দুইদিকে থামের মাথায় অৰ্দ্ধবৃত্তাকারে লোহার ফ্রেমে সোনালী অক্ষরে জলজল করিতেছে —‘ন্যাশনাল ফিল্ম স্টুডিও’। মা-কালীকে স্মরণ করিয়া গেটের মধ্যে সবে পা দিয়াছেন, এমন সময় পিছন হইতে কোমরে আঁকশি দিয়া কে যেন টানিয়া ধরিল । ঘাড় ফিরাইয়া দেখিলেন, ইয়া গালপাটাওয়াল পশ্চিমা-পহলবানের মত এক দীর্ঘবপু দরওয়ানজী হাকিয়া বলিতেছে-কাছ স্বাতা ? ভড়মশায় বলিলেন—ধাহা আমার বাৰু আছেন । দরওয়ানজী হাকিল—গেট-পাশ হ্যায় ? —ছ। হ্যায়। আমার বাবুর কাছ থেকে এখুনি নিয়ে আ৷ ও হ্যায়, এনে তোমায় দিয়ে দেবো । —পহেলা ল্যাঙ, লে-আয়কে অন্দরমে ঘুসো। —বেশ, এখুনি এনে দিচ্ছি, তোমার কোনো চিন্তা নেই হ্যায়।