পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$48 বিভূতি-রচনাবলী আমি চলে এলাম বটে কিন্তু বুড়োর কথা ভুলতে পারলাম না কতদিন অনেকদিন কেটে গেল । বালক থেকে আমি হয়ে উঠেচি যুবক । পাথুরেঘাটার এক বড়লোকের বাড়ি যাতায়াত করি । সেখানে মস্ত বড় একখানা অয়েল পেটিং ছবি দেখে হঠাৎ চমকে উঠলাম। এই ছবি যার, তাকে আমি কোথায় দেখেচি ? বাড়ীর লোককে বল্লাম—ইনি কে ? তারা বল্পে—একে চেনেন নাকি ? ইনি বিখ্যাত চিত্রকর দুর্গাচরণ সান্তাল । একে নিয়ে খবরের কাগজে হৈ চৈ হয় খুব । —দুর্গাচরণ সান্তাল ? —নামকরা লোক । বড় বৈঠকখানায় যত অয়েল পেন্টিং দেখবেন সব ঔর করা । দেড় দু'হাজার টাকা নিতেন ছবি পিছু। সব বড় লোক খদের ছিল । এ ছবি তার নিজের, নিজেই একেছিলেন। মেজবাবু বেঁচে থাকতে শিল্পীর নিজের ছবি অনেক টাকা খরচ করে আঁকিয়ে নেন। আপনি একে চিনতেন ? —আমি কোথাও একে দেখেচি ঠিক মনে করতে পারচিনে। ইনি থাকতেন কোথায় ? —থাকতেন কলকাতাতে । বরানগরে ৷ শেষ বয়সে হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যান। এত টাকা রোজগার ফেলে, বড় বড় মকেল ছেড়ে দিয়ে কোথায় যে চলে গেলেন তার কোনো সন্ধানই পাওয়া যায়নি। সে আজ বিশ-পচিশ বছর আগের কথা । কেউ খুজে পায় নি। খবরের কাগজে হৈ চৈ হয় তার অন্তৰ্দ্ধান নিয়ে । অত নামকরা আর্টিস্ট ! সে এক রহস্য সেকালকার । আমার হঠাৎ মনে পড়লো। চিত্রশিল্পী দুর্গাচরণ সান্যালের রহস্ত আমি জানি। মুখপুখুর ঘাটবাওড়ের সেই বুড়ে । সেই ঝড়বৃষ্টির রাত্রি, সেই অপূৰ্ব্ব ছবি, আধ-আকা সেই ছবিখানা ! আর্টিস্ট হঠাৎ অশ্বিনীকে দেখে শুামৰ্চাদগঞ্জের বাজারে আমি বড়ই আশ্চৰ্য্য হয়ে গেলাম। আমাদের গ্রামের লোক অশ্বিনী। তবে আজ বহুকাল ও দেশছাড়া। অশ্বিনী আমাদেরই বয়সী হবে। ওর বাবা অভয় দাস ভিক্ষে করে সংসার চালাতে । আমাদের গ্রামে তাকে বলতে ‘অবাই দাস। অবাই দাস খঞ্জনী বাজিয়ে হরিনাম করে পাড়ায় পাড়ায় ভিক্ষা করতে এ.আমি নিজে দেখেচি। তারপর অবাই দাস কতকগুলি অপোগও ছেলেমেয়ে রেখে মারা গেল । ওর বিধবা স্ত্রী ছেলেমেয়ে নিয়ে কোথায় যেন চলে গিয়েছিল তা কেউ খোজ রাখে না ।