পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Ꮰ অপর বেলাও তাহার ব্যতিক্রম হয় নাই । যথা নিয়মে সংসার-যাত্রা, গহস্হালী, কেরানীগিরি, ভাড়া বাড়ী•••।’ অপও বোঝে জীবনটা কলেপড়া ইন্দরের মত । কোথায় সে নীল আকাশ, মাঠ, আমের বউলের গন্ধভরা জ্যোৎস্নারাবি ? পাখী আর ডাকে না, ফুল আর ফোটে না, আকাশ আর সবুজ মাঠের সঙ্গে মেলে না—ঘেটুফুলের ঝোপে সদ্য-ফোটা ফুলের তেতো গন্ধ আর বাতাসকে তেতো করে না। অপর রোমাসের স্বপ্ন বিলীনপ্রায়। কিন্তু লেখক বলেন, এই মানসিক দারিদ্র্য ও সঙ্কীণতার বিরুদ্ধে অপর মনে একটা যুদ্ধ চলছে। আমরা কিন্তু যন্ধেকলহের লক্ষণ দেখি না । আমরা দেখি, অপ, সব কিছুকে বিনা প্রতিবাদে, বিনা যন্ধে মেনে নিয়ে জীবনকে অভাবনীয়ের হাতে সমপণ করে দিয়েছে। সেই অভাবনীয়ের সাক্ষাৎ মেলে অপণার আকস্মিক মৃত্যুতে । অপণার মৃত্যুই অপরকে সাময়িকভাবে বন্ধ জীবনের দৈন্য থেকে উদ্ধার করেছে । জীবন-যন্ধের জয়লাভ থেকে এ মুক্তি আসে নি, এ-মরক্তি দৈবের হাত থেকে পাওয়া । সবজয়ার মৃত্যুতে অপ বন্ধন-মন্তির আনন্দ অনুভব করেছিল। কিন্তু সে মুক্তি জাগতিক স্নেহ-বন্ধন থেকে মুক্তি নয়, পিছন্টোন থেকে মুক্তি। নিশ্চিন্দিপর থেকে অপসব জয়ার যে জীবন একসঙ্গে বসে এসেছিল, মনসাপোতায় এসে তা প্রথম পথক হল। কলকাতাবাসী অপর জগৎ এবং সবজিয়ার জগৎ দটি পথক জগৎ । অপর সবজিয়ার জগতে ফিরে যেতে পারে না, সবজয়াও অপর জগতের নাগাল পায় না। তাই সবজিয়ার মৃত্যু প্রকৃতই অপর বন্ধন-মুক্তি। মাতা-পত্রের জগতের বৈষম্য থেকে মুক্তি, অতীতথেকে মুক্তি,পিছটান থেকে মুক্তি। অপণার মৃত্যুতেও এক বন্ধ জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে অপ বলে উঠেছে, ‘মন্ত ! মন্ত ! মন্ত । আর কাহাকেও গ্রাহ্য করে না সে ! কথাটা ভাবিতেই সারা দেহ অপব উল্লাসে শিহরিয়া উঠিল— বাঁধন-ছোঁড়া মন্ডির উল্লাস । বহুকাল পর স্বাধীনতার আসবাদন , আজ পাওয়া গেল। ঐ আকাশের ক্ৰমবিলীয়মান নক্ষত্রটার মতই আজ সে দরে পথের পথিক ‘ অপর মুখে মুক্তির এই উল্লাস আকস্মিকও বটে, অস্বাভাবিকও বটে। বৈরাগ্য নয়, আসক্তি-ই অপর চরিত্রের প্রধান বৈশিস্ট্য । অপর মিস্টিক নয়, রোমাটিক । নিশ্চিন্দিপুরের সঙ্গে, রাণ-লীলা-পটুর সঙ্গে তার ভালোলাগার বন্ধন, ভালোবাসার বন্ধন । এ-বন্ধন এমনই প্রবল যে স্থানের দুরত্ব, কালের ব্যবধান সে-বন্ধনকে শিথিল করে নি, প্রবলতর করেছে। এই আসক্তির বন্ধন, ভালোবাসার বন্ধন থেকে মুক্তি, জীবন থেকে মন্তিরই নামান্তর। সে-মন্তি তো অপর জীবনের কাম্য নয়, এই বন্ধন-ই অপর জীবনের মলধন। নয়ত তার রোমান্সেয় স্বপ্ন মিথ্যা । তাছাড়া, অপণার সঙ্গে দ্বাপত্য জীবনের প্রতিটি মাহত সন্ধায় ভরা ছিল । অপর বন্ধ জীবনের মরভূমির মধ্যে অপণাই ছিল শ্যামশোভা । এই মাধ্য ভরা দাম্পত্য জীবন থেকে উৎসারিত আনন্দ-ই ছিল অপর জীবন-রস। অপর্ণা তো অপকে বেধে রাখে নি, বাঁচয়ে রেখেছে। অপর মতপ্রায় জীবনকে অপণা যখন আপন ভালোবাসা দিয়ে বাঁচয়ে তুলছিল, সে-ভালবাসা অপ দ্বিধাহীন চিত্তে গ্রহণ করেছে। কখনও একথা সে ভাবে নি, পলে পলে তার বন্ধনভীর মনের গলায় বন্ধনের ফাঁস পড়েছে ; কখনও মনে করে নি, ভালোবাসার প্রাচীর তুলে অপণা তার স্বপ্নজগৎকে দটির আড়ালে নিয়ে গেছে। অপণার মৃত্যুর পরই সে প্রথম আবিকার করল, মন্তি এবং স্বাধীনতাই তার কাম্য। অপ; আর যা-ই হক, ‘অতিথি’-র তারাপদ নয়। লেখক অপকে নিয়ে কি করবেন পিহর করতে না পেরে সহজ উপায়ে অনেক সমস্যার সমাধান করেছেন। অপর বন্ধন-মন্তিও সহজ সমাধানের দন্টান্ত । অপর মুক্তির সংজ্ঞাও আমাদের কাছে দ্যবোধ্য। আমরা জানি, জীবনানন্দ যার লক্ষ্য সে জীবনকে এড়িয়ে নয়, জীবনকে বাঁকার করেই জীবনানন্দ আম্বাদন করে। কিন্তু