পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/১৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ృq0 বিভূতি-রচনাবলী গ্রামের পথ। চে'চামেচি শনে দু-চার জন লোক জড় হয়ে পড়ল । —কি, কি, খড়ো কি ? —এই দ্যাথো না ক্যাদার খড়োর কাল্ডটা—নিজের অংশ আমার অংশ গিলে খেয়ে বে আছে, এখন উপড়ে হাত করবার নামটি নেই । 廳 লোকে কিন্তু এ ঝগড়ায় উৎসাহের সঙ্গে যোগ দিলে না, দু-একবার ঘার নেড়ে সরে পড়ল অনেকে। যারা দাঁড়িয়ে রইল, তারাও নীলমণি চাটুজের পক্ষে কথা না বলে বরং এমন সব মতামত প্রকাশ করলে, যা কি না তাঁর বিরুদ্ধেই যায়। নীলমণি অগত্যা অন্য দিকে চলে গেলেন । দু-একজন লোকে বললে, পথের মধ্যে এ রকম চে'চামেচি কি ভাল ? ছিঃ—সামান্য কয়েক আনা পয়সার জন্যে—আর ও'র সঙ্গে ? কেউ সহানুভুতির সঙ্গে বলেন, ক্যাদার জ্যাঠা আপনি বাড়ি যান চলে— তিনিও চলে গেলেন । নবাগত দু-একজন লোক জিজ্ঞেস করলে জনতাকে—কি হয়েছে, কি ? —ওই নীল খড়ো ক্যাদার রাজাকে পথের মধ্যে ধরেছে, আমার খাজনা শোধ করো, ভারি তো খাজনা, ক’আনা পয়সা—হঃ– —ক্যাদার রাজা কি বললে ? —বলবে আর কি, সবাই জানে ওর অবস্হা কি । দিতে পারে যে দেবে এখনি ? পয়সা ট্যাকে করে এনেছে নাকি । —কেদার রাজা এসব গোলমালের ভেতর থাকতে চান না, কখনও পছন্দ করেন না । নিবিবাদী লোক। নীল খড়োর যা লোভ ! জনতা ক্ৰমে ভেঙে গেল । ঘাঁর নাম কেদার রাজা, তিনি নিজের বাড়ি ঢুকলেন যখন, তখন বেলা প্রায় একটা । কেদারের স্ত্রী লক্ষীমণি ছিলেন অপৰিব সন্দেরী, ইদানীং তাঁর সে চোখ-ধাঁধানো রপের সামান্য কিছু অবশেষ যা ছিল তাতেও অপরিচিত চোখ তাঁর দিকে অবাক হয়ে চেয়ে থাকত । তাঁর মৃত্যু হয়েছে আজ এই বছর দুই । বাড়িতে আছে শুধ মেয়ে শরৎসন্দেরী । মেয়ে মায়ের অতটা রূপ পায় নি বটে, তবুও এ গ্রামের মধ্যে তার মত সন্দরী মেয়ে আর নেই । —এত বেলা অবধি কোথা ছিলে ? “তোমায় নিয়ে আর পারিনে—তেল মাখো, নেয়ে এসো । কেদার রাজা একটু অপ্রতিভ মুখে ঘরে ঢুকলেন । মেয়ে ভাত রোধে বসে আছে, তিনি আগে খেয়ে না নিলে সে-ও খেতে পারে না—হয়তো তার কষ্টই হচ্ছে । মুখ ফুটে তো কিছু বলতে পারে না ! না, বড় অন্যায় হয়ে গিয়েছে । শরৎ বাবাকে তেল দিয়ে গেল। বললে, এত বেলায় আর নদীতে যেও না । জল তুলে দিচ্ছি, বাড়িতেই নাও । এই কন্টের ওপর আবার শরৎকে জল তুলতে হবে কুয়ো থেকে ? কেদার প্রতিবাদ করে বললে, না, আমি নদীতেই যাই । ডুব দিয়ে না নাইলে কি আর নাওয়া হ’ল ; চললাম, দে গামছাখানা— শরৎ পাথরের খোরায় বাবার ভাত বাড়তে গেল। কাসার জিনিসপত্র ছিল বড় সিন্দকে বোঝাই-সব গিয়েছে একে একে—অভাবের তাড়নায় বিক্ৰী হয়ে, নয় তো বাঁধা দিয়ে। আর উদ্ধার করা যায় নি । - শরৎ বাবার খাবার জায়গা করে অপেক্ষা করতে লাগল । কেউ নেই কেদার রাজার