পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/২৪০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা ఫిలీల ঢুকলো । কেদার বললেন, এটা কি জায়গা ? প্রভাস বললে, এটা বারাসাত। আর বেশী দরে নেই কলকাতা । এখান থেকে একটু চা খেয়ে নেবেন কাকাবাব ? কেদার বললেন, কেন এখানে কি তোমার কোনো জানাশনোলোকের বাড়ি আছে নাকি ? চা খাবে কোথায় ? —না, জানাশনো কেউ নেই। দোকানে খাবো । চায়ের দোকান আছে অনেক— —না বাপ । তোমরা খাও, আমি দোকানের চা কখনও খাই নি, ও আমার ঘেন্না করে। আমি বরং একটু তামাক ধরিয়ে খাই । অনেকক্ষণ তামাক খাওয়া হয় নি। দোকানের চা শরৎও খেলে না। অরণ ও প্রভাস নিজেরা গাড়ির কাছে চা আনিয়ে খেলে । কেদার আরাম করে হাকো টানতে টানতে বললেন, চা ভালো ? প্রভাস ব্যস্ত হয়ে উঠে বললে, কেন, মন্দ না ! খাবেন, আনবো ? —না, আমি সেজন্যে বলছি নে । আমি দোকানের চা কখনো খাই নি, ও খাবোও না কখনো । তোমরা খাও । আমরা সেকেলে মানুষ, আমাদের কত বাচবিচার । গাড়ি ছেড়ে যশোর রোড দিয়ে অনেকখানি এসে একটা বড়লোকের বাগানবাড়ির মধ্যে ঢুকলো। ফটক থেকে লাল সুরকির রাস্তা সামনের সদশ্য অট্টালিকাটির গাড়িবারান্দাতে গিয়ে শেষ হয়েছে। পথের দু-ধারে এরিকা পামের বড় বড় চারা গাছ, ক্লেটন, শেফালি, চাঁপা, আম, গোলাপজাম প্রভৃতি নানারকম গাছ । প্রভাস বললে, আপনারা নামন-এবেলা এখানে থাকবেন আপনারা । এটা অরণদের বাগানবাড়ি, ওর দাদামশায়ের তৈরি বাড়ি এটা । • কেদার ও শরৎ দনুজনেই বাড়ি দেখে আনন্দে ও বিসময়ে নিবাক হয়ে গেলেন। এমন বাড়িতে বাস করবার কল্পনাও কখনো তাঁরা করেন নি। মাৰেবল পাথরে বাঁধানো মেজে, ছোট বড় আট-দশটা ঘর। বড় বড় আয়না, ইলেকট্রিক পাথা, আলো, কোঁচ, কেদারা । তবে দেখে মনে হয় এখানে যেন কেউ বাস করে নি কোন দিন, সব জিনিসই খাব পরোনো —দ একটা ঘর ছাড়া অন্য ঘরগুলোতে ধলো, মাকড়সার জাল বোঝাই । কেদার কথাটা বললেন প্রভাসকে । প্রভাস বললে, ওর দাঙ্গাবাব শোঁখীন লোক ছিলেন, তিনি মারা গিয়েছেন আজ বছর কয়েক । এখন মাঝে মাঝে অরুণেরা আসে—সব সময় কেউ থাকে না । শরৎ বললে, এটাই কলকাতা প্রভাসদা ? —না, এটাকে বলে দমদম । এর পরেই কলকাতা শুরু হ’ল । তোমরা বিশ্রাম করো— ওবেলা কলকাতা বেড়িয়ে নিয়ে আসবো । এখনি ঝি আসবে, যা দরকার হয় বলে দিও বিকে—সব গুছিয়ে এনে দেবে । ঠাকুর আসবে এখন— শরৎ বললে, কি ঠাকুর ? —রান্না করতে আসবে ঠাকুর । —বাবা ঠাকুরের হাতে রান্না খেতে পারবেন না প্রভাসদা, ঠাকুর আসবার দরকার নেই। আমি আছি তবে কি জন্যে ? —কলকাতায় এলে, একটু বেড়াবে না, বসে বসে রান্না করবে গড়শিবপুরের মত ? বাঃ– —তা হোক গে। আমার রান্না করতে কতক্ষণ যাবে বলন তো ? ক'জন লোকের রান্না করতে হবে ? প্রভাস ও অরণ শরতের প্রশ্ন শনে হেসে ফেললে। প্রভাস বললে—ক’জন লোকের রান্না আবার ! তোমাদের দুজনের, আবার কে আসবে তোমার এখানে খেতে ? তুমি তো আর