পাতা:বিভূতি রচনাবলী (তৃতীয় খণ্ড).djvu/৩৩০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কেদার রাজা రిషిరి বটগাছটার ডাল তার ওপরে বুকে পড়েছে। শরৎ যেন কতকাল পরে এসব দেখছে, জন্মাস্তরের তোরণদ্বার অতিক্রম করে এ যেন নতুন বার পথিবীতে এসে চোখ মেলে চাওয়া বহন কালের পরোনো পরিচয়ের পথিবীতে । কালোপায়রা দীঘির ধারের এমনি একটি সুপরিচিত বৈকালের স্বপ্ন দেখে কতবার চোখের জল ফেলেছে কাশীতে পরের বাড়ি দাসত্ব করতে করতে। দশাশ্বমেধ ঘাটের রানায় সন্ধ্যাবেলা রেণকার সঙ্গে বসে। রাজগিরিতে গপ্রকুট পাহাড়ের ছায়াবত পথে মিনার সঙ্গে বেড়াতে বেড়াতে । o সে শরৎ নেই আর । শরৎ নিজের অনভূতিতে নিজেই বিস্মিত হয়ে গেল। নতুন দৃষ্টি, নতুন মন নিয়ে ফিরেছে শরৎ । পল্লীগ্রামের ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা যে শরৎসন্দেরীর দটি সংকীর্ণ গন্ডির মধ্যে আবদ্ধ রেখেছিল, আজ বহি’জগতের আলো ও ছায়া, পাপ ও পণ্যের সঙ্গে সংস্পশে এসে যেন শরতের মন উদারতর, দটি নবতর দশনের ক্ষেত্রে প্রসারিত হয়েছে । ঝিঙে তুলে রেখে শরৎ বার বার দীঘির ঘাটের ভাঙা চাতালে প্রাচীন বটতলায় নানা কারণে অকারণে ছটে ছুটে আসতে লাগল শধ্যে এই নতুন ভাবানুভূতিকে বার বার আসবাদ করবার জন্যে । একবার উপরে গিয়ে দেখলে গ্রামের জগন্নাথ চাটুজে কার মুখে খবর পেয়ে এসে পৌঁছে গিয়েছেন । বাবা ও জ্যাঠামশায়ের সঙ্গে বসে গল্প করছেন । ওকে দেখে জগন্নাথ বললেন, এই যে মা শরৎ, তা কাশী গয়া অনেক জায়গা বেরিয়ে এলে বাবার সঙ্গে আর গোপেশ্বর ভায়ার সঙ্গে ? ভালো—প্রায় দেড় বছর বেড়ালে । বুদ্ধিমতী শরৎ বঝেল এ গলপ জ্যাঠামশায়ই রচনা করেছেন তাদের দীঘ* অনুপস্হিতির কারণ নিন্দেশ করার জন্যে। শরৎ জগন্নাথ চাটুজের পায়ের ধলো নিয়ে প্রণাম করলে । —এসো, এসো মা, থাক । চিরজীবী হও--তা কোন কোন দেশ দেখলে ? কেদার বললেন, দেড় বছর ধরে তো বেড়ানো হয় নি। আমি মধ্যে চাকরি করেছিলাম হিংনাড়ার বাজারে ঘোষেদের আড়তে । এই গোপেশ্বর দাদা সপরিবারে পশ্চিমে গেলেন, শরৎকে নিয়ে গিয়েছিলেন— শরৎ বললে, চা খাবেন জ্যাঠামশায়, যাবেন না বসন । আমি বাসনগুলো ধয়ে আনি পুকুরঘাট থেকে । আবার সে ছটে এল কালোপায়রা দীঘির পাড়ে ছাতিম বনের দীঘ', ঘনশীতল ছায়ায়। পরোনো দিনের মত আবার রোদ রাঙা হয়ে উঠে গিয়েছে ছাতিম গাছের মাথায়। বেলা পড়ে এসেছে। এমন সময়ে দরে থেকে রাজলক্ষীকে আসতে দেখে সে হঠাৎ লুকিয়ে আড়ষ্ট হয়ে দাঁড়িয়ে রইল । lo রাজলক্ষীর হাতে একটি প্রদীপ, তেল সলতে দেওয়া। দজনেই দুজনকে দেখে উচ্ছসিত আনন্দে আত্মহারা। রাজলক্ষী হেসে বললে, মানুষ না ভুত, দিদি ? —ভুত, তোর ঘাড় মটকাবো । তারপর দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরলে । —শনিস নি আমরা এসেছি ? —কারো কাছে না। কে বলবে ? আমি অবেলায় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, উঠে এই আসছি— - —কোথায় চলেছিস রে এদিকে ? তোমাদের উত্তর দেউলে পিদিম দিচ্ছি আজ এই দেড় বছর । বলে গিয়েছিলে মনে নেই ? —সত্যিক্ষভাই ? —না মিথ্যে ।