পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/১৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত Ꮌ8Ꮬ সহজে চাপা দেওয়া গেল না, ক্রমে ক্রমে নাকি প্রকাশ হইতে লাগিল যে, বরের একটু সীমান্ত ছিট আছে বটে,—কিংবা ছিল বটে, তবে সেটা সব সময় ত্বে থাকে তা নয়, আজিকার গরমে, বিশেষ উৎসবের উত্তেজনায়—ইত্যাদি। ব্যাপারট। অনেকখানি সহজ হইয়া আসিতেছিল, নানা পক্ষের বোঝানোতে আবার সোজা হাওয়া বহিতে শুরু করিয়াছিল, মেয়ের বাপ শশীনারায়ণ বাড়য্যেও মন হইতে সমস্তটা ঝাড়ির ফেলতে প্রস্তুত ছিলেন—তাহা ছাড়া উপায়ও অবশ্ব ছিল না—কিন্তু এদিকে মেয়ের মা অর্থাৎ প্রণবের বড় মামীম মেয়ের হাত ধরিয়া নিজের ঘরে ঢুকিয়া খিল দিয়াছেন,—তিনি বলেন, জানিয়া-শুনিয়া তাহার সোনার প্রতিমা মেয়েকে তিনি ও পাগলের হাতে কখনই তুলির দিতে পরিবেন না, যাহা অদৃষ্টে আছে ঘটিবে। সকলের বহু অনুনয় বিনয়েও এই তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে তিনি আর ঘরের দরজা খেলেন নাই, নাকি তেমন তেমন বুঝিলে মেয়েকে রামদ দিয়৷ কাটিয়া নিজের গলায় দী বসাইয়া দিবেন এমনও শাসাইয়াছেন, সুতরাং কেহ দরজা ভাঙ্গিতে সাহস করে নাই! অপর্ণাও এমনি মেয়ে, সবাই জানে, মা তাহার গলায় যদি সত্যই রাম-দণ বসাইয়া দেয়ও, সে প্রতিবাদে মুখে কখনও টু শব্দটি উচ্চারণ করিবে না, মায়ের ব্যবস্থা শাস্তভাবেই মানিয়া লইবে । পিছনের ভদ্রলোকটি বলিলেন, আপনি না রক্ষা করলে আর কেউ নেই, হয় এদিকে একটা খুনোখুনি হবে, না হয় সকাল হলেই ও-মেয়ে দো-পড়া হয়ে যাবে—এ সব দিকের গতিক তো জানেন না, দো-পড়া হ’লে কি আর ও মেয়ের বিয়ে হবে মশাই ?...আহ, আমন সোনার পুতুল মেয়ে, এত বড় ঘর, ওরই অদৃষ্টে শেষে কিনা এই কেলেঙ্কারী ! এ রাত্রের মধ্যে আপনি ছাড়া আর এ অঞ্চলে ও-মেয়ের উপযুক্ত পাত্র কেউ নেই—বাচান আপনি— অপুর মাথায় যেন কিসের দাপাদাপি, মাতামাতি.-মাথার মধ্যে যেন চৈতন্তদেবের নগরসংকীর্তন শুরু হইয়াছে ! -এ কি সঙ্কটে তাহাকে ভগবান ফেলিলেন । সকল প্রকার বন্ধনকে সে ভয় করে, তাহার উপর বিবাহের মত বন্ধন ! এই তো সেদিন মা তাহাকে মুক্তি দিয়া গেলেন...আবার এক বৎসর ঘুরিতেই—একি ! মেয়েটির মুখ মনে হইল.আজই সকালে নিচের ঘরে তাহাকে দেখিয়াছে কি শাস্ত, সুন্দর গতিভঙ্গি। সোনার প্রতিমাই বটে, তাহার অদৃষ্টে উৎসবের দিনে এই ব্যাপার।. তাহা ছাড়া রাম-দ-এর কাগুটী...কি করে সে এখন ?-- কিন্তু ভাবিবার অবসর কোথায় ? পিছনে প্রণব দাড়াইয়া কি বলিতেছে, সেই ভদ্রলোক দুটি তার হাত ধরিয়াছেন—তাহাও সে ঠেলিয়া ফেলিয়া দিতে পারিত—কিন্তু মেয়েটিও যেন শাস্ত ডাগর চোখ দুটি তুলিয় তাহার মুখের দিকে চাহিয়া আছে ; সেই যে কাল সন্ধ্যায় প্ৰণবের আহানে ছাদের উপরে যেমন ওহাঁর পানে চাহিয়াছিল—তেমনি অপরূপ স্নিগ্ধ চাহনিতে নির্বাক মিনতির দৃষ্টিতে সেও যেন তাহার উত্তরের অপেক্ষা করিতেছে।... সে বলিল, চল ভাই, যা করতে বলবে, আমি তাই করব, এসো। নিচে কোথাও কোন শব্দ নাই, উৎসব-কোলাহল থামিয়া গিয়াছে, বরপক্ষ এ বাড়ি হইতে সদলবলে উঠিয়া গিয়া ইহাদের শরিক রামদুর্লভ বাড়বের চণ্ডীমণ্ডপে আশ্ৰয় লইয়াছেন,