পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


〉b'8 বিভূতি-রচনাবলী মণ্ডলী গঠনের ও শনিবারের চিঠি অন্তভাবে বার করার জন্ত খানিকট পরামর্শ করা হল। কাজে কতদূর হয় বলা যায় না। কাল মোহিতবাবু কলকাত এসেচেন, সজনীবাবু লিখে পাঠালেন। বৈকালে গেলাম প্রবাসী আপিসে । সেখান থেকে বার হয়ে সকলে মিলে প্রথমে যাওয়া গেল ডঃ সুশীল দে-র বাড়ি। সেখানে ঢাকার বর্তমান হাঙ্গামা ও ইউনিভার্সিটির গোলযোগ সম্বন্ধে অনেক কথাবার্তা হল। সজনীবাবুর ব্যক্তিগত কথাও অনেক উঠল—অনেকক্ষণ বলে সেখানে হাসি-গল্প হল, বেশ উপভোগ করা গেল—ড. দে আমার ঠিকানা চাইলে বিপদে পড়লুম—এ বাসাটা যদি বদলাই তবে, বদলে ফেললে এ ঠিকানাটা দিয়েই বা লাভ কি ? সেখান থেকে বার হয়ে সবাই গেলাম কবি যতীন বাগচীর বাড়ি। মনোহরপুকুর রোড তো প্রথমে খুঁজেই বার কর দায়। ট্যাক্সি ছেড়ে দিয়ে বালিগঞ্জ এ্যাভিনিউ বেয়ে আমরা রাত ন’টার সময় একবার এদিক, একবার ওদিক—সে মহামুস্কিল। অনেক কষ্টে রাত দশটার সময় বাড়ি বেরুল। যতীনবাবু আমাদের দেখে খুব খুশী হলেন । মোহিতবাবু আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলেন ; বললেন, “অল্পদিনের মধ্যেই ইনি যশস্বী হয়ে উঠেচেন একখানা বই লিখে, luck আছে বলতে হবে। আমি মনে মনে খুব খুশী হয়ে উঠলাম, যা-ই বলি। তারপর জল-টল খাওয়ার পরে সেখান থেকে অনেক রাত্রে বাসায় ফেরা গেল। আজও আবার তাই। প্রথমে কেদারবাবুর সঙ্গে এশিয়াটিকদের অকৰ্মণ্যতা নিয়ে খানিক তর্ক-বিতর্ক হল । উনি বললেন, ‘কেন, জঙ্গিস খাঁ কি বড় সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন নি ? আমি বললুম—সেটা one man show মাত্র, কোনো স্থায়ী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা তিনি করেছিলেন কি ? ...প্রবাসী আপিস থেকে আমরা গেলুম অমল হোমের বাড়ি, সেখানে অনেকক্ষণ গল্পগুজব ও কবিতা আবৃত্তি হল। অমল হোমের স্ত্রী বললেন, ‘একটি মহিলা আপনার সঙ্গে দেখা করতে চান, আপনার ‘অপরাজিত পড়ে—আমি তাকে ডাকি,—কালোর ঘরেই আছেন। মেয়রের নির্বাচন সম্পর্কে অনেকগুলো নতুন কথা শুনলাম অমল হোমের মুখে—যতীন সেনগুপ্ত এবার মেয়র না হলে অনেকে দুঃখিত হবে বটে, কিন্তু মেয়র হলে লোকে তার চেয়েও দুঃখিত হবে। বাইরে চেয়ে দেখলাম আকাশে মেঘ করেচে—অনেকটা দুরের আকাশও দেখা যায়—দুরের কথা, দেশের কথা মনে করিয়ে দেয়। এরা বেশ শিক্ষিতা মেয়ে, ধরণধারণ এত মার্জিত ও মধুর যে এদের সঙ্গে গ্রামের মেয়েদের—সইম কি বুড়ি পিসিমা—এদের তুলনা করে হতাশ হতে হয়। একটা ভাঙা কুড়া এক জায়গায় বসানো ছিল, বেরুবার সময় পায়ে এমন লাগল ! .. সেখান থেকে এণাম মুরেশবাবুর বাড়ি। সেখানে হেম বাগচী ও মুবল বসে আছে। মুরেশবাবুর স্ত্রী চায়ের উদ্যোগ করতে আমরা নিবৃত্ত করলাম—কেননা এইমাত্র অমল হোমের বাড়ি থেকে আমরা চা, পাপর ভাজা, বাদাম ভাজা ও রসগোল্লা খেয়ে আসচি। ফরাসী কবি