পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


象○b বিভূতি-রচনাবলী প্রায়ই বিদেশের ফটো—আফ্রিকার, কি দক্ষিণ আমেরিকার—কিন্তু তখন ভুলে যাই যে আমাদের গ্রামের চারিপাশে সত্যিকার বন জঙ্গল আছে অতি অপূর্ব ধরনের-যখন বিলিতি Grand Evening Annual cofo on ভুলে যাই কত ধরনের अडूठ গাছ আছে আমাদের বনে জঙ্গলে—যা বাগানে, পার্কে নিয়ে রোপণ করলে অতি সুদৃগু কুঞ্জবন স্বষ্টি করে—যেমন ধাড়া, কুঁচলত, ঐ নাম-না-জানা গাছটা—এর যে-কোন বিখ্যাত পার্কের সৌন্দর্য ও গৌরব বৃদ্ধি করতে পারে। সেদিন যখন আমি, রাণু, খুড়ীমা, ন'দি নদীতে বিকেলে স্বান করচি তখন একটা অদ্ভূত ধরনের সি দুরে মেঘ করলে—ওপারের খড়ের মাঠের উলুবনের মাথা, শিমুলগাছের ডগা, যেন অবাস্তব, অদ্ভূত দেখাল, যেন মনে হচ্চিল ওখান থেকেই নীল আকাশটার শুরু। কিন্তু কাল সন্ধ্যায় একা নদীতে নেমে যে অপুর্ব অনুভূতি হয়েছিল তা বোধ হয় জীবনে আর কোনদিন হয় নি। তার মাথায় একটা তারা উঠেচে—দুরে কোথায় একটা ডাহুক পাখী অবিশ্রান্ত ডাকচে । মাধবপুরের চরের দিকে ভায়োলেট রঙের মেঘ করেচে- শাস্ত, স্তব্ধ নদীজলে তার অস্পষ্ট প্রতিবিম্ব । মানুষ চায় এই প্রকৃতির পটভূমির সন্ধান । এতদিন যেন আমার Emerson-এর মতের সঙ্গে খুব মিল ছিল—সেদিন ও বঙ্গশ্রী আপিসে কত তর্ক করেচি, আজ একটু মনে সন্দেহ জেগেচে। মানুষ এই স্বষ্টিকে মধুরতর করেচে। এই দূর আকাশের নক্ষত্রটি—sর মধ্যেও স্নেহ, প্রেম, যদি না থাকে, তবে ওর সার্থকতা কিছুই নয়। হৃদয়ের ধর্ম সব ধর্মের চেয়ে বড়। আজ সকাল থেকে বর্ষ নেমেচে । ঝিম্ ঝিম্ বাদলা, আকাশ অন্ধকার। আজ এই মেঘমেদুর সকালে একবার নদীর ধীরে বেড়িয়ে আসতে ইচ্ছে করচে—বাওড়ের ধারের বেলে মাটির পথ বেয়ে একেবারে কুঁদীপুরের বাওড় বয়ে রেখে মোল্লাহাটির খেয়া পার হয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্চে পিসিমার বাড়ি পাটুশিমলে বাগান-গ। কাল মুন্দরপুর পর্যন্ত বেড়াতে গিয়েছিলুম বৈকালে—ও পথের প্রাচীন বটগাছের সারির দৃপ্ত আমি আবাল্য দেখে আসচি, কিন্তু ও পুরনো হল না—যত দেখি ততই নতুন। গাছে গাছে খেজুর পেকেচে, কেঁয়োবাকা গাছের তলায় ব্যাঙের ছাতা গজিয়েচে এই বর্ষায়। আরামডাঙ্গার মাঠে মরগাঙের ওপারে, সবুজ আউশ ধানের ক্ষেত এবং গ্রামসীমায় বাশবনের সারি মেঘমেদুর আকাশের পটভূমিতে দেখতে হয়েচে যেন কোন বড় শিল্পীর হাতে-আঁকা ল্যাণ্ডস্কেপ । ক্ষেত্ৰকলু ওদিক থেকে ফিরচে, হাতে ভাঙা লণ্ঠন একট। বললে মোল্লাহাটির হাটে পটল কিনতে গিয়েছিল। —পটল না কিনেই ফিরলে যে ? —কি করব বাবু, ছ’পয়সা সের দর। একটা পরসাও লাভ থাকচে না । গোপালনগরের হাটেও ওই দর। এবার তাতে আবার পটল জন্মায় নি। যে দুৰ্ব্বচ্ছর পড়েচে বাবু! কলকাতাটা যেন ভুলে শিরচি। যেন চিরকাল এই বটের সারি, বাওড়, সুন্দরপুর, সখীচরণের মুৰীখানার দোকানে কাটাচ্চি জীবনটা। এদের শাস্ত সঙ্গ আমার জীবনে আননা এনেচে উগ্র চুরাশার মত্ততা ঘুচিয়ে । সে দ্বরাশাটা কি ? নাই বা লিখলাম সেটা।