পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/২৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


*○b" বিভূতি-রচনাবলী বছর এখানে ১৯১১ দিন মাত্র ছিলাম—বনগায়ে ছিলাম বেশীদিন । এবার এখান থেকে কোথাও যাই নি। এখান থেকে যেতে মন ও নেই। কলকাতার জীবনটা যেন ভুলে যেতে ঘসেচি । কাল বিকেলে ঘন কালে মেঘ করে বৃষ্টি এল। আমি আর কালো বৃষ্টিমাথায় বেলেডাঙ্গার পুল পর্যন্ত বেড়াতে গেলাম। ঝোপঝাপ ভিজে কেমন হয়ে গিয়েচে–গাছপালার গুড়ির রং কালো—ডালপাতা থেকে জল ঝরে পড়ার শব্দ। তারপরে নদীর জলে স্বান করতে নামলাম—স তার দিয়ে বাধাল পর্যন্ত গেলাম । সীতার দিয়ে এত আনন্দ পাই নি কোনদিন এবারকার গরমের ছুটির আগে । কুঠার মাঠের একটা নিভৃত স্থানে চুপ করে খানিকক্ষণ দাড়িয়ে রইলাম—মাথার ওপর কালো মেঘ উড়ে যাচ্চে—দিক থেকে দিগন্তব্যাপী বিদ্যুডের শিখা—শুধু চারিদিকে বৃষ্টির শব,-গাছে পাতায়, ডালপালায়, ঝোড়ো হাওয়া বইচে–নির্জন প্রাস্তরের মধ্যে এক দাড়িয়ে থাকার সে অমৃতৃতির তুলনা হয় না। তার প্রকাশের ভাষাও নেই—যা খুব ঘনিষ্ট, খুব আপন, তাকে কি আর প্রকাশ করা যায় ? আজ বিকেলে বহুদিন পরে ভারী মুনার রাঙা রোদ উঠল । বাধালের কাছে নাইতে নেমে মাঝ জলে গিয়ে ওপরের একটা সাইবাবলা গাছের ওপর রোদের খেলা দেখছিলাম—কি অদ্ভূত ধরনের ইন্দ্ৰনীল রং-এর আকাশ, আর কি অপূর্ব সোনার রং রোদের।”সকলের চেয়ে সেই সাইবাবলা গাছের বাকী ডালপালা ও ক্ষুদে ক্ষুদে সবুজ পাতার ওপর সোনার রংয়ের রোদের থেলা ।--তারই পাশে ওপারের কদম্বগাছটাতে বড় বড় কুঁড়ি দেখা দিয়েচে. শ্রাবণের প্রথমেই ফুল্লপুপসম্ভারে নতশীথ-নীপতরুটি বর্ষাদিনের প্রতীক স্বরূপ ওই সবুজ উলুখড়ের মাঠে স্বমহিমায় বিরাজ করবে—বর্ষার ঢল নেমে ইছামতী বেড়ে ওর মূল পর্যন্ত উঠবে, ঝরা কেশররাজি ঘোলাজলের খরস্রোতে ভেসে চলে যাবে...উলুবন আরও বাড়বে.আমি তখন থাকবো কলকাতায়, সে দৃপ্ত দেখতে আসবে না । কাল সকালে এখান থেকে যাবে, আজই এখানে থাকার শেষ দিন এ বছরের মতো । এবার ছুটিটা কাটল বেশ–কি প্রকৃতির দিক থেকে, কি মানুষের দিক থেকে, অদ্ভুত ভাবে ছুটিটা উপভোগ করা গেল এবার। কলকাতায় থাকলে আমার যে আফ্রিকা দেখবার ইচ্ছে হয়, পাহাড় জঙ্গল দেখবার ইচ্ছে হয়—এখানে দীর্ঘদিন কাটালে কিন্তু আর কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না। গাছপালায়, নীল আকাশে, নদীর কালোজলে সাতার দিতে দিতে দ্ব পাশের বাশবন, সাইবাবলার সারি চেয়ে চেয়ে দেখা, সবুজ উলুর মাঠের দৃপ্ত,পাখীর অবিশ্রাপ্ত ডাক— এখানে মনের সব ক্ষুধা মিটিয়ে দেয়। বলে লিখচি, রাণু এসে বললে—দাদা এক কাপ চা খাৰেন DS BBBD DDDB BB BBDBBB BDD S DB BB BBB DDDDDDBSBB চলে যাবেন না কাল, জার একদিন থাকুন, আপনি চলে গেলে পাড়া আঁধার হয়ে যাবে।