পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৩৪৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


৩২০ বিভূতি-রচনাবলী পরামর্শে অবসর সময়ে চিত্রবিদ্যার চর্চা আরম্ভ করেছেন, গণিতের কেতাব সব আলমারীর মধ্যে চাবি বন্ধ ! পুজোর ছুটিতে তাদের ওখানে গেলাম। প্রভাবতী ভারী আনন্দ প্রকাশ করলেন। রাজচন্দ্রবাবুকে অনেক সুস্থ বলে মনে হোল বটে, কিন্তু আগেকার মত যেন দেখলাম না । রাজচন্দ্রবাবু বললেন—ওহে, তোমরা ধূমকেতুটার কথা ভুলে যাওনি তো ?...ওটা আসছে কিন্তু ঠিক. - আমি বললাম–আগে এটা এসেছিল কখনো ? রাজচন্দ্রবাবু বললেন—এসেছিল নিশ্চয়ই, তবে অনেকদিন আগে। মানুষ তখন শিশু ছিল। প্যারাবোলার পথে ঘুরতে—বড় প্যারাবোলার পথে ঘুরে আসতে অনেক বছর কেটে গিয়েছে - .غون আমি না বুঝিতে পেরে বললাম—প্যারাবোলায় ঘুরলে সেটা কি ফিরে আসবে আবার— তিনি বললেন—কেন অসেবে না ? বড় প্যারাবোলা আর কিছু না—Ellipse-ই— তবে চ্যাপ্টা খুব বেশী, যাকে বলে Rocontricity খুব বেশী। অন্য ধূমকেতুর পথ ছোট Ellipse, মানুষের জ্ঞানের মধ্যেই হয়তো দু’বার আসতে পারে—হতে পারে এর পথ ঘুরতে লেগেছে পাচ হাজার কি দশ হাজার বছর।—দশ হাজার বছর আগে যখন এসেছিল তা মানুষের ইতিহাসের বাইরে. তারপর সরল বৃদ্ধ অপ্রতিহতভাবে বললেন—ওহে, এটা তোমরা দাও না কাগজে-টাগজে লিখে ! তারপরই তার সেই প্রাণ খোলা হাসি। কলকাতায় ফিরে খুব হইচই করা গেল। রাজচন্দ্রবাবুর লেখা এক চিঠি নিয়ে এলাম বঙ্গবাসীর সম্পাদকের নামে। বঙ্গবাসী তখন নামজাদা পয়সাওয়াল কাগজ ! বঙ্গবাসীতে বড় শিরোনামা ফেঁদে কথাটা ছাপা হোল। ক্রমে হিতবাদী, বসুমতী, ঢাকণপ্রকাশ, তখনকার সব বড় কাগজেই কথাটা ছড়িয়ে গেল । তখনও অবহু তিন বৎসর বাকী। কথাটা দু একবার আলোচনা হয়েই থেমে গেল। তারপর কি হোল, সে-কথা এখনও বোধহয় অনেকে ভুলে যাননি। তখন রুশ-জাপান যুদ্ধের সময়। জাপানীর পর পর চেষ্টা করেও পোট আর্থার দখল করতে পারছে না। জেনারেল স্টোশেল বন্দরের মধ্যে ইদুর-কলে আটকা পড়েছেন—ও-দিকে বালটিক-বন্দর চলে আসছে নৌ-সেনাধ্যক্ষ রোজডেস্টভন্‌স্কির অধীনে। স্পেনের গ্যালিসিয়া প্রদেশের বন্দরটাতে কয়লা নিতে গিয়ে বন্দরের কর্তৃপক্ষদের অদুরদর্শিতার ফলে যে গোলমাল স্বষ্টি হয়েছিল, কাগজওয়ালারা তা নিয়ে খুব ব্যস্ত আছে। সকলে বলছে, এইবার একটা আন্তর্জাতিক বিপ্লবের স্বত্রপাত না হয়ে আর যায় না। লোকে ভারী খুশী আছে, অনেকে রাত্রে ভাল করে ঘুমোয় না । এমন সময় সংবাদ এল,স্পেনের সঙ্গে সে-বিবাদ রুশ মিটিয়ে ফেলেছে ইংরেজের মধ্যস্বত্তায়। অনেক হজুী লোক বড় আশাভঙ্গ হয়ে একেবারে শষ্যগ্রহণ করলো ।