পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৫১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8bob” বিভূতি-রচনাবলী বেলা প্রায় বারোটার সময় আমরা গ্রিওেলি বলে একটি গ্রামে পৌঁছলুম। এই গ্রাম আমাদের গন্তব্যস্থান থেকে মাত্র দু মাইল এদিকে, এখানেই আমরা দুপুরে খাবো-দাবো । গ্রামে ঢুকবার আগে এক অপূর্ব দৃপ্ত। ঢুকবার পথের দুধারে সারবন্দী লোক দাড়িয়ে কাদের অপেক্ষা করচে ধেন—অনেক দূর থেকে দেখতে পাচ্ছিলুম। প্রমোদবাবু বললেন—ওখানে অভ লোক কিসের হে ? পরিমল বললে—আমি একটা ফটো নেবো । আমরা কাছে যেতেই তারা আমাদের একযোগে পুলিস প্যারেডের মতো সেলাম করলে । ওদের মধ্যে একজন লোক এগিয়ে এসে বললে—আমার নাম বিম্বাধর, আমি এই গ্রামের গ্রামীণ। ডেপুটি কমিশনার সাহেব পরোয়ানা পাঠিয়েচেন কাল আমার ওপর, আপনাদের বিক্রমথোল দেখবার বন্ধোবস্ত করতে। সব কয়ে রেখেচি-আমুন বাবুসাহেবরা । কিরণ বললে—ব্যাপার কি হে ? পরিমল বললে—রাজশক্তি পেছনে থাকলেই অমনি হয়, এমনি আমরা ট্যাং ট্যাং করে এলে কেউ কি পুছত ? এ ডেপুটি কমিশনারের পরোয়ানা— আমি বললুম-টু করবার জোঁ-টি নেই। গ্রামের মাঝখানে মগুপঘর। সেখানে আমাদের নিয়ে গিয়ে সবাই তুললে। রথ-যাত্রার ভিড় লেগেচে সেখানে, গ্রামসুদ্ধ লোক সেখানে জড় হয়েছে কলকাতা থেকে মহাপ্রতাপশালী বাবুরা আসচেন শুনে। ডেপুটি কমিশনার স্বয়ং যাদের নামে পরোয়ানা পাঠান—তাদের একবার চোখে দেখে আসাই যাক ! বেলপাহাড়ের পাটোয়ার ইতিমধ্যে জাহির করে দিয়েচে—বাবুরা সাধারণ লোক নয়! গবর্নমেণ্টের খাসদপ্তরের অফিসর সব। ভাইসব, হুঁশিয়ার ! বিম্বাধর আমাদের জন্তে এক ধামা ওকুড়া অর্থাৎ মুড়কি আর এক কড়া ভর্তি গরম দ্বধ নিয়ে এল। পরামর্শ করে স্থির হল আমরা একটু বিশ্রাম করে নিয়ে এখনি বিক্রমখোল যাবো। সঙ্গে চারজন ফরেস্ট গার্ড এবং বিম্বাধর থাকবে। জঙ্গল বড় ঘন, বাঘ ভালুকের ভয়—বেলাবেলি সেখান থেকে ফিরতে হবে দেখে শুনে। এসে মানাহার করা যাবে—নতুবা এখন মানাহার করতে গেলে বেলা একেবারে পড়ে যাবে, সে সময় অত বড় জঙ্গলে ঢোকা । যুক্তিযুক্ত হবে না। কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে আমরা বিক্রমথোল রওনা হলুম। গ্রিণ্ডোলা ছাড়িরে মাইল দুই গিয়েই গভীর অরণ্যভূমি—লোকজনের বসতি নেই, শুধু বস্তবাশ আর শাল-পলাশের বন। প্রকাও বড় বড় লতা গাছের ডালে জড়াজড়ি করে আছে —গাছের ছায়ায় সবুজ বনটিয়ার বাক ; হরীতকী গাছের তলায় ইতস্তত শুকনো হরীতকী ছড়িয়ে পড়ে আছে—কোথাও আমলকি গাছে যথেষ্ট আমলকি ফলে আছে। পূর্বে যে শুভ্রকাও বৃক্ষকে শিববৃক্ষ বলে উল্লেখ করেচি, এ বনে তার সংখ্যা খুব বেশি। এত শিৱ-বৃক্ষের ভিড় আমি আর কোথাও দেখিনি। ,” *