পাতা:বিভূতি রচনাবলী (দ্বিতীয় খণ্ড).djvu/৫৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত 있 বাছির হইয়া বাড়ি ফিরিবার পথে দেখিতে পাইত-হাই স্কুলের প্রকাও কম্পাউণ্ডে ছেলের সকলেই এক ধরণের পোশাক পরিয়া ফুটবল খেলিতেছে। তখন কতদিন মনে হইয়াছে এত বড় স্কুলে পড়িতে যাওয়া কি তাহার ঘটিবে কোন কালে—এসব বড়লোকের ছেলেদের জন্ত। এতদিনে ডাহার আশা পূর্ণ হইতে চলিল। বেলা দশটার কিছু আগে বোর্ডিং-মুপারিন্টেণ্ডেণ্ট বিধুবাবু ডাহাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। সে কোন ঘরে অাছে, নাম কি, বাড়ি কোথায়, নানা জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া বলিলেন, সমীর ছোকরা ভাল, একসঙ্গে থাকলে বেশ পড়াশুনো হবে। এখানকার পুকুরের জলে নাইবে না কখনো—জল ভালো নয়, স্কুলের ইন্দারার জলে ছাড়া-আচ্ছা যাও, এদিকে আবার ঘণ্টা বাজবার সময় হ’ল। সাড়ে দশটায় ক্লাস বসিল। প্রথম বই খাত হাতে ক্লাস রুমে ঢুকিবার সময় তাহার বুক আগ্রহের ঔৎসুক্যে চিপ, চিপ, করিতেছিল। বেশ বড় ঘর, নীচু চৌকির উপর মাস্টারের চেয়ার পাতা—খুব বড় ব্ল্যাকবোর্ড। সব ভারী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, নিখুঁতভাবে সাজানো। চেয়ার, বেঞ্চি, টেবিল, ডেস্ক সব ঝকৃঝকু করিতেছে, কোথাও একটু ময়লা বা দাগ নাই। মাস্টার ক্লাসে ঢুকিলে সকলে উঠিয়া দাডাইল। এ নিয়ম পূর্বে সে যে সব স্কুলে পড়িত সেখানে দেখে নাই। কেহ স্কুল পরিদর্শন করিতে আসিলে উঠিয়া দাড়াইবার কথা মাস্টার শিখাইয়া দিতেন। সত্য সত্যই এতদিন পরে সে বড় স্কুলে পড়িতেছে বটে ... জানালা দিয়া চাহিয়া দেখিল পাশের ক্লাস-রুমে একজন কোট-প্যাণ্টপরা মাস্টার বোর্ডে কি লিখতে দিয়া ক্লাসের এদিক-ওদিক পায়চারী করিতেছেন—চোখে চশমা, আধপাকা দাড়ি বুকের উপর পড়িয়াছে, গম্ভীর চেহারা। সে পাশের ছেলেকে চুপি চুপি জিজ্ঞাসা করিল, উনি কোন মাস্টার ভাই ? ছেলেটি বলিল—উনি মিঃ দত্ত, হেডমাস্টার—ক্রি",ান, খুব ভালো ইংরিজি জানেন। অপূর্ব শুনিয়া নিরাশ হইল যে তাছাদের ক্লাসে মিঃ দত্তের কোন ঘণ্টা নাই। থার্ড ক্লাসের নিচে কোন ক্লাসে তিনি নাকি নামেন না । পাশেই স্কুলের লাইব্রেরী, স্তাপ খালিনের গন্ধ-ভরা পুরোনো বই-এর গন্ধ আসিতেছিল। ভাবিল এ ধরণের ভরপুর লাইব্রেরীর গন্ধ কি কখনো ছোটখাটো স্কুলে পাওয়া যায় ? ঢং ঢং করিয়া ক্লাস শেষ হওয়ার ঘণ্টা পড়ে—আড়বোয়ালের স্কুলের মত একখণ্ড রেলের পাটির লোহা বাজায় না, সত্যিকারের পেট ঘড়ি।—কি গভীর আওয়াজটা ... টিফিনের পরের ঘণ্টায় সত্যেনবাবুর ক্লাস । চব্বিশ-পচিশ বৎসরের যুবক, বেশ বলিষ্ঠ গড়ন, ইহার মুখ দেখিয়া অপুর মনে হইল ইনি ভারী বিদ্বান, বুদ্ধিমানও বটে। প্রথম দিনেই ইহার উপর কেমন এক ধরণের শ্রদ্ধা তাহার গড়িয়া উঠিল! লে শ্রদ্ধা আরও গভীর হুইল ইহার মুখের ইংরেজি উচ্চারণে। ছুটির পর স্কুলের মাঠে বোর্ডিং-এর ছেলেদের নানা ধরণের খেলা শুরু হইল। তাঁহাদের ক্লাসের ননী ও সমীর তাঁহাকে ডাকিয়া লইয়া গিয়া অন্ত সকল ছেলেদের সহিত পরিচয় করাইৱা