পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/১০৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী ক্ষেত্রবাৰু ছুটির দিনই রাত্রির ট্রেনে বৰ্দ্ধমান রওনা হলেন। পরদিন সকালের দিকে বৰ্দ্ধমান স্টেশনে নামিয়া প্লাটফৰ্ম্মের উত্তর দিকে মালগুদামের ও পার্সেন্স-জাপিসের পিছনে দাদার কোয়ার্টারে গিয়া ডাক দিলেন, ও বউদি ! —এস এস ঠাকুরপো। মনে পড়ল এত দিন পরে ? তা ভাল আছ বেশ ? আমায় শশীবাবুর বউ রোজই বলেন—*্যা দিদি, তোমার সে ঠাকুরপো কবে আসবেন ? আমি বলি —তা কী জানব ? কলেজে কাজ করেন, বড় চাকরি, ছুটি না হলে তো আসতে পারেন না। তা ছেলেমেয়েদের কোথায় রেখে এলে ? —ওরা তাদের পিসীমার কাছে রইল কালীঘাটে—মেজদিদির কাছে। —বেশ, এসেছ ভালই হয়েছে। এবার একটা যা হয় ঠিক করে ফেল। ওঁদের মেয়ে বড় হয়েছে, তোমার ভরসাতেই আছে। আর তোমাকে সংসার যখন করতেই হবে, তখন আর দেরি করা কেন, আমি বলি। ব’সো হাত-পা ধোও, চা করি। ক্ষেত্রবাবু এইরূপ একটা অস্পষ্ট আশার গুঞ্জনধ্বনি সারারাত ট্রেনের মধ্যে কানের কাছে শুনিয়াছেন—চলমান লাতাসে সে আভাস আসিয়াছিল ! বাসায় পা দিতেই এমন কথা শুনিবেন, তাহা কিন্তু ভাবেন নাই। ক্ষেত্রবাবু পুলকিত হইয়া উঠিলেন। - র্তাহার জাঠতুতো দাদা গোবৰ্দ্ধনবাবু সন্ধ্যার সময় ডিউটি হইতে ফিরিয়া বলিলেন, এই যে, ক্ষেত্র কখন এল ? চা খেয়েছ ? স্কুল কবে—কাল বন্ধ হ’ল ? বেশ । গোবৰ্দ্ধনবাবু পাক৷ লোক। যে খুড়তুতো ভাই আজ সাত-আট বছরের মধ্যে কখনও ঘনিষ্ঠত করা দূরের কথা, বছরে দুইখানি পোস্টকার্ডের পত্ৰ দিয়া খোজ-খবর লইত কি না সন্দেহ, সেই ভাই কাল স্কুল বন্ধ হইতে না হইতে কলিকাতা হইতে বৰ্দ্ধমানে আসিয়া হাজির, এ নিশ্চয়ই নিছক ভ্রাতৃ-প্রেম নয়। গোবৰ্দ্ধনবাবু মনে মনে হাসিলেন। . চা-জলখাবার-পৰ্ব্বাস্তে ক্ষেত্রবাবু তাহারই সমবয়সী শ্ৰীগোপাল মজুমদার অ্যাসিস্ট্যান্ট স্টেশন-মাস্টারের বাড়ী বেড়াইতে গেলেন। রেলওয়ে সমাজে পরম্পরকে উপাধি দ্বারা সম্বোধন করাই প্রচলিত। ' ক্ষেত্রবাবুকে সেখানেও একদফা চা খাবার খাইতে হইল। মজুমদার বলিল, তারপর ক্ষেত্রবাবু, শুনছিলাম একটা কথা—- ক্ষেত্রবাবুর বুকের মধ্যে টিপ টিপ করিয়া উঠল। বুঝিয়াও না-বুঝিবার ভান করিয়া বলিলেন, কী কথা ? - e —আমাদের মুখুজ্জের ভাইঝির সঙ্গে নাকি আপনার— ক্ষেত্রবাবু সলঙ্গ হাসিয়া বলিলেন, না না, কই না—আমার তো— —না, আমি বলি, দ্বিতীয় সংসার করার ইচ্ছে যদি থাকে, তবে এখানেই করে ফেলুন—মেয়েটি বড় ভাল । ক্ষেত্রবাৰু দুই-একবার বলি-বলি করিয়া অবশেষে পলিলেন, মেয়ে ? ও দেখেচেন নাকি ?