পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/২৮৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


& আবার বসন্তকাল । সুদীর্ঘ তিন বৎসর পূৰ্ব্বে এই বসন্তকালে এই সময় মালবিকার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। হেলিওডোরাস কি মনে করে এবার ঠিক তেমনি প্রস্ফুটিত কুহমগন্ধে আমোদিত পথ দিয়ে যেতে যেতে রথ থামিয়ে সেই উদ্যানটিতে প্রবেশ করলে । কতদিন এখানে আসেনি ! সম্পূর্ণ বাস্তব এই পাষাণবেদ । স্বপ্ন তো নয়—বিশাল রাজপুরীর অন্ত:পুর-প্রাস্তে সেই রূপবতী তরুণী রাজনন্দিনীও তো স্বপ্ন নয়। এখানে এসে তবুও যেন কেমন একটু স্পর্শ-একদিন এখানকার এই মৃত্তিকায় তো সে এসে দাঁড়িয়েছিল। আজ সে হয়তো বিবাহিতা—কোনো দূর রাজ্যের রাজমহিষী ৷ BBBB BB BBS BBB BBBBSKB S BBBBS BB ggB BBBBB BB দিয়েচেন । হিপোলিটাসের সেই কবিতা 'আপেলগাছের ছায়, তরুণাকণ্ঠের গীতধ্বনি, স্ববর্ণের দু্যতি—' 顧 হঠাৎ পাষাণ-বেদিকার পিছনে বৃক্ষশ্রেণীর মধ্যে কার পদধ্বনি শোনা গেল। তবে কি সেই কৃষ্ণকায় উদ্যানরক্ষক যাকে একবার সে কিছু পুরস্কার দিয়েছিল ! মুখ ফিরিয়ে চেয়ে দেখেই হেলিওডোরাস স্তব্ধ হয়ে রইল বিস্ময়ে, ঘটনার অপ্রত্যাশিত আকস্মিকতায় । সেই অপরূপ রূপসী তরুণী স্বয়ং। হেলিওডোরাস উঠে দাড়ালে । মেঘাবরোধ ছিন্ন করে বিদ্যুংশিখা একেবারে তার সামনে —কতদিনের স্বপ্নে চাওয়া তার সেই মানস প্রতিম | দীর্ঘ তিন বৎসরে তার রূপ এতটুকু স্নান হয়নি—বরং বেড়েচে । তার চেয়েও আশ্চর্য্য, তরুণী তার দিকে চেয়ে হাসিমুখে বল্লে—ও, আপনি ! হেলিওডোরাসের ঘোর তখনও যেন কাটে নি—মাথ ও শরীর ঝিম্‌ঝিম্ করচে । সে উত্তর দিল, ইণ ভদ্ৰে— মেয়েটি বল্লে--আপনি অনেকদিন এদিকে আসেন নি—আপনি ছিলেন না এখানে তাও জানি । তুণদের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যস্ত ছিলেন। বীর আপনি । কিন্তু ফিরেছেন কবে তা শুনিনি। হেলিওডোরাসের গ্রীক রক্ত শরীরের মধ্যকার শিরায় উপশিরায় আগুন ছুটিয়ে দিলে। সে স্থির দৃষ্টিতে তার প্রেমাম্পদার দিকে চেয়ে বল্লে—আমি ফিরে এসেচি এবং এই উষ্ঠানেও এসেচি কয়েকবার-কিন্তু আপনাকে দেখিনি— মেয়েটি অবাকৃ হয়ে বল্লে—আমাকে ? —আপনাকে খুজেচি যে—এই তিন মাস ধরে । গান্ধার থেকে ফিরে পর্য্যম্ভ কতদিন এসেচি । মেয়েটির মুখে যেন অতি অল্প সময়ের জন্য কিসের দীপ্তি, ওর শ্বেতপদ্মের আভাযুক্ত গণ্ডস্থল যেন অতি অল্প সময়ের জন্য রক্তিম হয়ে উঠলে-সে বল্লে—আচ্ছ, আমি শুনেচি, আপনি নাকি যুদ্ধে যাওয়ার পূৰ্ব্বে বাস্থদেবের মন্দিরে যাতায়াত করতেন প্রায়ই—