পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৩৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


©ማህዎ বিভূতি-রচনাবলী তোমার সেথ' বঁাশের ঝাড়ে অরূপ রূপের পাখার পাড়ে বঁাশের ফুলে ভুবন আলো দেখতে এলাম তাই । চলার পথে বাদল দিনে তোমার সেই বঁাশতলাতে দিও ঠাই, ও আমার হৃদ-কমলের পরম গুরু সাই... সেই ছেলেবেলার শোনা গানটা ।•••ওর গান গাওয়ার ধরনটা আমার বেশ লাগে । চোখ উলটে উদাস-নেত্রে ওপর পানে চেয়ে—সে ভাবই আলাদা। গলা ভালো নয়, ভাঙা গল, ছুটে বেম্বরে স্বর যেন গলা থেকে বেরিয়ে আসচে—তাই কি, চোখ দিয়ে যখন ওর দরদর জল নেমে এল, তখন আমাদের গ্রামের বিখ্যাত যাত্রার জুড়ি দাপ্ত পরামানিকের চেয়েও ওকে স্বকণ্ঠ বলে মনে হোলো । আরও একটা তারপর আর একটা । সরাটির চরে ঝিঙে-ফুল ফুটে ছিল সেবার, ঝিঙে-ফুলের হলুদ-ক্ষেত আর পাগল ঠাকুরের গানের ক্ষ্যাপাটে স্বর একতারে বাধা । ধু-ধু সরাটির চরে, নির্জন সরাটির চরে ঘুলি-ঘুলি আধ অন্ধকারে কেউ ঝিঙের ফুল ফুটতে দেখেছিলে ত্রিশ বছর আগের এক ভান্দ্র সন্ধ্যায় ? তা হোলে পাগল ঠাকুরের গান বুঝতে পারবে । আমি একমনে শুনচি ৷ হঠাৎ গান থামিয়ে ও বললে—কি খাবা ? —কিছু না । —সে বললে হবে কেন ? আমারে পেরসাদ দেবে এখন কে ? —আমি খেতে আসি নি তোমার কাছে । তোমাকে দেখতে এসেচি। পাচ বছর পরে এলাম । পাগল ঠাকুর বিস্ময়ের স্বরে বললে—পাচ বছর হয়ে গেল এরি মধ্যে ? কি জানি, দিন রেতের হিসেব তে রাখি নে। ই্য, তা তুমি অনেক বড় হয়ে গিয়েচ বাবাঠাকুর। তখন ছিলে এত বড়—ওগো শোনো— সেই বুড়ী কাছে এসে বললে—কি বলচে ? খোকাবাবু কে ? আমি বললাম—চিনতে পারলে না ? সেই এসেছিলাম পাঁচ বছর আগে ? নন্দর মাসতুতো ভাই, আমার নাম পতিতপাবন। —বাৰাঠাকুর, বড় খুশী হলাম তুমি এয়েচ। আর চোখে ঠাওর হয় না আগেকার মত ; ভালো আছো ? —ই্যা, তা আছি। এখন ইস্কুলে পড়চি—এবার থার্ড ক্লাসে উঠেচি ফাস্ট হয়ে । —তা হবে। তোমাদের সব ভালো হোক, গুরু-গোসাইয়ের জয়ায় সব নিরুগী হয়ে থাকে । পাগল ঠাকুর বললে—ঘরে কিছু আছে ? বাৰাঠাকুরের লেবায় লাগাও। আমার দুৰ্ব্বল প্রতিবাদ সত্বেও সেবা-লাগানোর কাজে এল একটি পাকা পেঁপে। আমি