পাতা:বিভূতি রচনাবলী (সপ্তম খণ্ড).djvu/৪৭৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


(इ असूर्ण, कर्थ क७ 娜鲁神 গোলগোলি, পড়াশি, বনতুলসী ও করম ( Adina cordifolia) গাছের জঙ্গলে নিশীথ রাত্রির জ্যোংঙ্গা পড়েচে, সামনের উপত্যক ও ওপারের আটকুশি ও পোটরা পাহাড়শ্রেণীতে বনে বনে সেই জ্যোৎস্না এক মায়ালোকের স্বাক্ট করেচে–যেন এই জনহীন নিশীখে বনদেব ও দেবীরা এখানে নামেন নিঃশষ্ণ পদক্ষেপে, তাদের মুখে মুখে ধ্বনিত হয় বিশ্বের অধিদেবতার নীরব জয়গান । এই বনে (এ পাহাড়টি ছাড়া, এর ওপর বেশির ভাগ শুধুই শেফালি গাছ ) এ সব গাছ তো জাছেই আরও আছে তুন, লতা, পলাশ Butea Superba, বোংগা, সর্জম লতা, শাল, আসান, পিয়াল, মহুয়া, অর্জুন, বট, কদম্ব, কুস্কম, ধওড়া, রাজ জেহুল, কুঙ্গরি, রোহান (Soymids Febrifuga), বাশ, পিয়াশাল, চীহড়লত, বেল প্রভৃতি গাছ আছে। অধিষ্ঠি কোনো একটা জায়গায় এত রকমের বৃক্ষ একসঙ্গে জড়াজড়ি করে থাকে না বা নেই ও মানুষের তৈরি বাগান ছাড়া। অরণ্যের প্রকৃতিই তেমন নয়, যেখানে যে গাছ আছে সেখানে সেটাই বেশি। শালতে শালই, অর্জুন তো অর্জনই-এমন রকম। আজ সকালে তাবু থেকে বার হয়ে দুবলীবেড়া গ্রামের মধ্যে দিয়ে পাহাড়ে উঠলুম। স্বন্দর বনপথে উঠলুম। ঘাটশিলা থেকে ষোল মাইল হবে। দূরে ভালকি পাহাড়শ্রেণী দেখা যাচ্চে। এখন বেলা সাড়ে পাঁচটা । এখানে বলে এইমাত্র চা ও খাবার খেয়েচি । দূরে দূরে শৈলশ্রেণী, সামনে সমতলভূমি নীল কুয়ালায় অস্পষ্ট। একটা শিলাখণ্ডে বলে থাকবার সময় গাছপালার ছায়ায় বসে মনে হোল হিমালয়ের পর্বতারণ্যে বসে আছি । পড়াশি বঁাশ, সোদাল প্রভৃতি গাছ । কাল সকালে আমাদের তাবুর পেছনে পাহাড়টার বড় পাথরের চাতালটাতে কতক্ষণ কাটিয়েচি । আকাশ ছিল সুনীল, তার তলায় শুকনো শালগাছ ও দোকা গাছের আঁকা-বাকা ডালপালার ভঙ্গি—সে একটা দেখবার জিনিস। একটা শিলাখণ্ডে রোঁত্রে কতক্ষণ শুয়ে রইলুম। রৌদ্রস্নাত দ্বিপ্রহরে চারিদিকে সে বস্ত সৌন্দৰ্য্য আমাকে অভিভূত করে তুললে । সত্যই এ সৌন্দর্ঘ্য যেন সহ করা শক্ত। প্রাণভরে ভগবানের শিল্প রচনা দেখি । বিকেলে আমরা ঘাটদুয়ার বলে একটি অতি চমৎকার স্থানে গেলুম, তাবু থেকে ৪ মাইল দূরে মুসাবনীর পথে। ছাতনাকোটা ও রাঙামাটিয়া নামে ছুটি সাওতালি গ্রাম পথেই পড়ে—সঁাওতালদের মাটির ঘরগুলি দেখবার জিনিস বটে, পরিষ্কারভাবে লেপা-মোছা, রাঙা ও কালো মাটি দিয়ে চিত্তির করা দেওয়ালের গায়ে আলনার মত পাখি আঁকা, গাছপালা আঁকা। ঘাটদ্বয়ার জায়গাটাতে দুদিক থেকে দুটি শৈলমাল এসে ক্রমনিম্ন হয়ে শেষ হয়ে গিয়েছে—মধ্যে হাত পাচেক চওড়া সমতলভূমি, এক পাশে একটা পাৰ্ব্বত্য নদী বড় বড় শিলাখণ্ডের ওপর দিয়ে বয়ে চলেচে । ঘন বন ছুপাশে, ঝর্ণার ওপরে অনাবৃত শিলান্তর থাকে থাকে কাৎভাবে এসে পড়েচে–প্রায় একশো ফুট কি দেড়শো ফুট উচু। স্তরগুলো একটার পরে একটা সাজানে, একটি থেকে আর একটি গুনে নেওয়া যায় । দুটি গুহা অাছে জলের ওপরেই, গত বৎসর নাকি এক খাড়িয়া পরিবার ওতে বাল কংtড়া ।