পাতা:বিশ্বকোষ ঊনবিংশ খণ্ড.djvu/২৭৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


লিঙ্গায়ত s २१8 ] লিঙ্গায়ত দের মধ্যে জাতীয়তার গোড়ামী অধিকতর পরিলক্ষিত হয় । এতবিম্বন তাহার স্বতন্থভাবে ব্যবসা বাণিজ্যে লিপ্ত থাকিয়া আপনাপন ধৰ্ম্মকৰ্ম্ম পালন করে, কখনও বিভিন্ন সাম্প্রদায়িক লোকের সহিত মিলিত হইয়া আহারাদি করে না । মান্দ্রাজের দেশীয় সেনাবি ভাগে লিঙ্গায়ৎ সম্প্রদায়ী বিরল। তাহারা নিরামিষাশী, কখনও ভোজনার্থে হন্তব্য পশু বিক্রয় করে না, এমন কি স্বীয় প্রভুকর্তৃক আর্দিষ্ট হইলেও উহা বাজার হষ্টতে ক্রয় করিয়া আনে না । তাহারা মন্থদাতা গুরুকে যথেষ্ট ভক্তি ও মান্ত করে। ওঁ, গুরু, লিঙ্গ ও জঙ্গম ভিন্ন তাহদের ধৰ্ম্ম কৰ্ম্মের আচরণীয় আর কিছুই নাই। ব্রহ্মণ্যধর্মের আচরিত পৌরোহিত্যে তাহাদের বিশ্বাস নাই। ব্রাহ্মণের পাছে গ্রাম মধ্যে আসিয়া বাস করে, এই ভয়ে তাহারা গ্রাম মধ্যেও কুপাদি খনন করে না। ঘাটপ্রভা নদীর অদূরবর্তী কালদিগি নগরের নিকটবৰ্ত্তী একটা গ্রামে ইহার নিদর্শন পাওয়া যায়। তথাকার লোকের গ্রামমধ্যে কুপ বা তড়াগ খনন না করিয়া ঘাট প্রভর জল ব্যবহার করিয়া থাকে। প্রিায়িক স্বাতস্থ্যনিবন্ধন প্রতিমূৰ্ব-উপাসক পৌত্তলিক ব্রাহ্মণ যাজকগণের স্পৃষ্ট জল গ্রহণীয় নহে বিচার করিয়া তাহারা এই বিদ্বেষ কল্পনা করিয়াছে। দক্ষিণাত্যের সমগ্ৰ মহাবী রাজ্যে বিশেষতঃ কর্ণাটকবিভাগে এই সম্প্রদায়ের অধিক বাস হাড়ে । তাহারা লিঙ্গোপাসনা ভিন্ন অন্য কোন দেবতাই পূজা করে না ; কিন্তু হিন্দুর অপরাপর দেবমূৰ্ব প্রতিষ্ঠিত মন্দির, মুসলমানের মসজিদ, অথবা খুষ্ঠানের গির্জার সম্মুখ দিয়া গমনকালে, তাছাপা শিবের উদ্দেশে প্রণাম করিয়া থাকে। তাহদের বিশ্বাস, ঐ সকল ধৰ্ম্মগুহে স্বয়ং মহাদেব লিঙ্গরূপে বিরঞ্জিত আছেন । বাম বাহুতে অথবা গলদেশে কোঁটায় করিয়া লিঙ্গমূৰ্ত্তি ধারণ এবং কপালে ভষ্মীগুলেপন সাম্প্রদায়িক পুরুষ ও রমণীগণেশ প্রধান কৰ্ম্ম । তাহারা সাধারণতঃ আতিথেয়ী ও মিতব্যৰ্মী, ধীর প্রকৃতি, কৰ্ম্মঠ ও সুসভ্য। সকলেই বাণিজ্যব্যবসায় জীবন পত করে । তাহদের মধ্যে জাতিগত শ্রেণীবিভাগ নাই, কেবল গদকর, হিঙ্গমীরে, জীরে, জীরেশল, কালে, মিতকব, পরমালে, ফুটানে, বৈকর ও বীরকর নামে কয়ট উপাধি আছে। ভিন্ন ভিন্ন উপাধিগত ব্যক্তির মধ্যেই আদান প্রদান হইয়া থাকে। পুরুষ ও রমণীগণের নাম প্রধানতঃ হরপাৰ্ব্বতীর নামেই রাখা হয়। সকলেই গৃহে কণাড়ী এবং বাহিরে মরাঠী ভাষায় কথা | কহিয়া থাকে। বেশভূষা মরাঠীদিগের দ্যায়,সকলেই নিরামিষাশী। তাহাদের পুরোহিত জঙ্গম নামে খ্যাত। এই পুরোহিতদিগকে তাহারা বিশেষরূপ ভক্তি করিয়া থাকে । পুত্রবধূ গর্ভিণী হইলে তাহাকে তাহার পিত্রালয়ে পাঠাইয়। দেওয়া হয় এবং সেইখানেই সে প্রসব করে। বালকের জন্ম হইবার পর, ধাত্রী নাভিরজু ছেদন করিয়া দিলে, পুত্রের জন্মবাৰ্ত্ত তাহার পিত্রালয়ে পাঠান হয়। সংবাদ পাইলা জাত বালকের পিতা স্বীয় আত্মীয়, বন্ধু বান্ধব ও প্রতিবেশীদিগের গৃহে পাণ ও চিনি পাঠাইয়া থাকে। প্রথম, তৃতীয় বা পঞ্চমদিনে মাতার গলদেশে এবং জাত বালকের মাথার বালিসের নীচে একটা লিঙ্গ রক্ষা করা হয়। পঞ্চমদিনে সন্ধ্যা কালে স্থতিকাগৃহের এক কোণে একটা চতুষ্কোণ ঘর আঁকিয় তাহাতে চাউল, ময়দা ও বালুক স্থাপন করে, পরে তাহার উপরে একখণ্ড কাগজ ও একটা কলম এবং তাহার নিম্নে নাভিকৰ্ত্তন ছুরিকাথানি রাখিয়া দেয় । তাহাই ষষ্ঠীদেবী জানিয়া প্রস্তুতি প্রণাম করিয়া থাকে । ষষ্ঠ রাত্রে তাহার একটা রৌপ্যনিৰ্ম্মিত পাৰ্ব্বতীমূৰ্ত্তি স্থতিকগৃহে কাষ্ঠের চৌকিতে স্থাপন করে। তদনন্তর ধাত্রী তাহার সম্মুখে ফুল ছড়াইয়া দেয় এবং কপূর ও ধূনা জালাইয়া থাকে। প্রস্থতি সেই দেবীমূৰ্ত্তিকে পূজা ও প্রণাম করিবার পর, স্থতিকাগারের সম্মুখে জঙ্গমকে আনিয়া উক্ত চৌকীতে বসান হয়। বাটীর গৃহকত্রী তখন একখানি থালে পুরোহিতের পদদ্বয় প্রক্ষালন করিয়া দেন । সেই পাদোদক পরে বাটীর সকল ঘরেই ছড়াইয়া দেওয়া হয় এবং সকলে পান করে। ভোজনাস্তে দক্ষিণ লঠয়া জঙ্গম বিদায় হন । কন্ঠীরত্ন প্রস্তুত হইলে দ্বাদশ দিনে এবং পুত্র জন্মিলে ত্রয়োদশ দিনে জাত বালকের নামকরণ হইয়া থাকে। নামকরণ দিনে পাচটা সধবা স্ত্রীলোক ( এয়ে ) আসিয়া বালকের নামকরণাস্তে সমবেত কুটুম্বরমণীগণের সহিত এক ঐ ভোজন করে । অশৌচস্তদিনে প্রস্থতি স্বানান্তে নিকটস্থ কোন মহাদেবমন্দিরে পুএসহ গমন করিয়া থাকে। তাহার পর পুত্র কোলে কপিয় সে পূতদেহে গৃহকৰ্ম্মে লিপ্ত হইতে পারে । ছয় মাসে অন্নপ্রাশন দিবার বিধি আছে । এক বৎসর বয়সে শিখ রাথিক্স জাত বালকের মস্তকাগুন করিয়া দেওয়া হয় । বালিকা হইলে তাহার মাতুল আসিয়া সম্মুখের কেশাগ্র স্থাটিয়া দেয়। ইহাই সম্ভবতঃ তাহদের চূড়াকরণ। বালক পঞ্চম বৎসরে পদার্পণ করিলে তাহাকে বিদ্যালয়ে পাঠান হইয়া থাকে এবং দ্বাদশবর্ষে তাহাকে শৈব মন্ত্রে দীক্ষা দিয়া স্তোত্রাদি পাঠ করিতে শিক্ষা দেওয়া হয় । বালিকা ষোড়শবর্ষীয় ন হইলে কখনই শিব-মন্ত্র অভ্যাসের অধিকারিণী হয় না । বালিকার ৮ হইতে ১২ বৎসর এবং যুবকদিগের ১২ হইতে ২৫ বৎসরে বিবাহ হইয়া থাকে । বালকের পিতাই প্রথমে কস্তাকৰ্ত্তার নিকট বিবাহের প্রস্তাব পাঠান। বরকর্তা, জঙ্গম