পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৪৬০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


पञपलझ7 [ ৪৩৩ ] অভক্ষ্য অভক্ষণ (ক্লী) ভক্ষ-লুটি ভক্ষণম্। নঞ তৎ। ভক্ষণের অভাব। উপবাস । অভক্ষ্য (ত্রি) ভক্ষিতুমযোগ্যং ভক্ষি-ণ্যৎ । নঞ তৎ। শাস্ত্র নিষিদ্ধ ভোজন দ্রব্য। অখাদ্য। পলাণ্ডু, লণ্ডন প্রভৃতি কোন কোন দ্রব্য স্বভাবতঃ অখাদ্য বলিয়া ধর। হইয়াছে। কোন কোন দ্রব্য সময় বিশেষে খাইলে দোষ হয় না, আবার সমর বিশেযে থাইলে দোয হয়। কোন কোন দ্রব্য স্থান বিশেষে অভক্ষ্য হয়, কোন কোন দ্রব্য অন্ত কোন বিশেষ দ্রব্যের সঙ্গে মিশ্রিত করিলে অখাদ্য হয়, কোন কোন দ্রব্য পাত্র বিশেষে রাখিলে অখাদ্য হয়, কোন কোন দ্রব্য অসংব্যক্তি হইতে গ্রহণ করিয়া খাইতে নাই, কোন কোন দ্রব্য জাতি বিশেষে স্পর্শ করিলে খাইতে নাই । অভক্ষ্য দ্রব্য ভোজন কর আয়ুঃক্ষয়ের প্রধান কারণ । মনুসংহিতার পঞ্চম অধ্যায়ের প্রথমে এই রূপ ভূমিকা আছে,—ঋষির ভূগুকে জিজ্ঞাসা করিলেন যে, বেদজ্ঞ ব্রাহ্মণের সকলেই ত আপন আপন ধৰ্ম্মের অমুষ্ঠান করিতেছেন, তবে তাহার বেদবিহিত চারিশত বৎসর পরমায়ু ভোগ করিতে পারেন না কেন ? কি নিমিত্ত র্তাহীদের অকালমৃত্যু ঘটতেছে ? এই কথা শুনিয়া ভৃগু বলিলেন,—ব্রাহ্মণের। আর ভাল করিয়া বেদ পড়েন না, তাহারা আচারভ্রষ্ট হইয়াছেন, দিন দিন অতিশয় অলস হইতেছেন, বিশেষতঃ র্তাহাদের খাদ্য দোষ ঘটিয়াছে, এই গুলিই অকালমৃত্যুর প্রধান কারণ । তাহার পর ময়ুপুত্র ভৃগু অভক্ষ্য দ্রব্যগুলির নাম করিতে লাগিলেন। এস্থলে কতৃকটা প্রাচীন ঐতিহাসিক তত্ত্ব নিশ্চয় করা যাইতেছে। 'চতুষ্পাৎ সকলো ধৰ্ম্মঃ সত্যঞ্চৈব কৃতে যুগে । মনুসংহিতাতে লেখা রহিয়াছে যে, সত্যযুগে চরিপোয়। ধৰ্ম্ম এবং সত্য ছিল। কিন্তু সত্যযুগেই ঋষির ভৃগুর কাছে অকালমৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন। ভৃগু তাহার উত্তরে আচারভ্রষ্টতা ও খাদ্যদোষাদির কথা বলিলেন। অতএব সত্যযুগেও লোকে যথেচ্ছাচারী ছিল তাহার প্রমাণ পাওয়া যাইতেছে । ভোজনাদির অত্যাচার না করিলে লোকে সেকালে দীর্ঘজীবী হইত ; ভোজনাদির অত্যাচার ন৷ করিলে লোকে এখনও দীর্ঘজীবী হইতে পারে। ভৃগু কহিলেন,—গাজর, রগুন ; পলাণ্ডু ; ছত্রাক, ইহাকে ছাতু ছাত এবং কোড়কও কহে; এবং বিষ্ঠাদিতে যে সকল শাকাদি জন্মে, তাহ ভোজন করিতে নাই। ( শাস্ত্রকারেরা এই সকল দ্রব্য ব্রাহ্মণাদির পক্ষে নিযেধ করিয়াছেন ; কিন্তু শূদ্র প্রভৃতির পক্ষে নিষেধ করেন नां ) ।। বৃক্ষের যে রক্তবর্ণ নির্যাস নির্গত হইয়। কঠিন হইয়। গিয়াছে ; বৃক্ষ ছেদন না করিলে যে নির্যাস বাহির হয় না ; চালতা ; এবং প্রসবের পর দশ দিন গত না হইলে যে গোদুগ্ধ জাল দিবার সময়ে কঠিন হইয়া যায়, তাহা অভক্ষ্য । যে সকল পশুর দুগ্ধপান করিতে ব্যবস্থা আছে, প্রসবের পর দশ দিন গত না হইলে তাছাদের দুগ্ধ থাইতে নাই। উটের দুগ্ধ ; অশ্ব প্রভৃতি যে সকল পশুর খুর যোড়া, তাহদের দুগ্ধ, মেযের দুগ্ধ; ঋতুমতী গাভীর দুগ্ধ; এবং বাছুর না থাকিলে তাদৃশ গোরুর দুগ্ধ খাইতে নিষিদ্ধ। স্ত্রীলোকের দুগ্ধ এবং হরিণ প্রভৃতি বন্য পশুর দুগ্ধও পান কর। অকৰ্ত্তব্য। কিন্তু মহিষের দুগ্ধ খাইতে निtरु५ नांदे । যে সকল দ্রব্য স্বভাবতঃ মিষ্ট, কিন্তু বিকৃত হইয়। বিস্বাদ বা অম্ল হইয়া গেলে তাহ ভোজন করা অনুচিত। কিন্তু দধি ও নবনীত অখাদ্য নহে। যে সকল উত্তম ফুল ফল মূল জলের সঙ্গে মিশিয়া যায়, তাহ খাইতে আছে । মাংসাশী পক্ষী ; গ্রাম্য পক্ষী ; গ্রাম্য কুকুট ; গ্রাম্য শূকর ; এক খুর বিশিষ্ট পশু , টিটিভ পার্থী ; চড়ই ; গুড়গুড়ে ; হংস ; চক্রবাক ; ডাক ; শালিক ; টিয়া ; যে সকল পক্ষী ঠোট দিয়া কীটাদি মারিয়া খায় ; যে সকল পক্ষী নখ দিয়া মাটী আঁচড়াইয়া খাদ্য অন্বেষণ করে ; লিপ্তপদ পক্ষী ; পানকোঁড়ী প্রভৃতি পক্ষী বাহার জলে ডুবিয়া মৎস্ত ধরে ; বক ; কাক ; খঞ্জন প্রভৃতির মাংস অখাদ্য। শুষ্ক মাংস এবং কসাইয়ের দোকানের মাংস কদাচ ভক্ষণ করিবে না। বোয়াল, রুই, রাজীব, কাতলা এবং আঁইসযুক্ত মাছ দৈব, পৈত্র্য এবং পীড়াদিতে ভোজন করা যায়। ( সুতরাং সহজে ভোজন করিবে না ) । পুস্তকান্তরে কাকড়, গুগলি, শামুখ, শাখ, কড়ী প্রভৃতি খাইতে নিষেধ আছে। সর্প প্রভৃতি যে সকল প্রাণী একাকী চরিয়া বেড়ায় ; যে সকল মৃগাদিকে কেহ চিনে না ; বিশেষ রূপে নিষেধ না থাকায় যাহাদের ংস থাইতে পারা যায় এ রূপ অনুমান হয় ;