পাতা:বিশ্বকোষ প্রথম খণ্ড.djvu/৯২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অঙ্কুর অঙ্কিনঃ । অঙ্কিনী (স্ত্রী) অঙ্ক-ইনি স্ত্রীত্বাং উীপ্ৰ অস্থানাং চিহ্নানাং সমূহঃ । *। থলাদিভ্য ইনিৰ্ব্বক্তব্যঃ । (কাত্যায়ন)। থলাদি শব্দের উত্তর সমুহার্থে ইনি প্রত্যয় বিহিত হয়। যথা,—খলিনী, ডাকিনী, কুটুম্বিনী, দ্রমিণী, অঙ্কিনী, গবিনী, রথিনী, কুণ্ডলিনী। অন্ধসমূহ। অঙ্ক.ইনি অস্ত্যর্থেঙীপ্ত, অঙ্কবিশিষ্ট । অঙ্কুর (পুং ) অঙ্ক-উরচ, মন্দিবাশিমথিচতিচঙ্কাঙ্কিভ্য উরচু। উণাদি ১।৩৮। অঙ্কুর শব্দ খঙ্গরাদিগণ মধ্যে পঠিত, তজ্জন্ত দীর্ঘ উকারও হয় । বীজ হইতে উৎপন্ন নূতন উদ্ভিদ, চলিত ভাষায় ‘কল কহে। জল । রক্ত। লোম । অস্কুরের অপভ্রংশে—আকুর, আঁকুড় । ‘র্তাহার ঘায়ে আঁকুড় পাতিয়াছে’ অর্থাৎ তাহার ঘায়ে নূতন মাংস গজাইতেছে। ‘পিয় আঁকুরী টুটল পিরীতি মূল, কৈছন ফুটব ততি ফুল রে।’ (চণ্ডীদাস)। অস্কুরে রুধিরে লোমি পালীয়েইভিনবোদ্ভিদি, মে। স্ত্রীলোক যেমন প্রথম অন্তঃসত্ত্ব হইলে তখন গর্ভের ভিতর সন্তানের কোন অবয়ব আকৃতি থাকে না, কেবল শোণিতশুক্রময় কতকটা লালের মত পদার্থ একত্রিত হইয়া থাকে। ক্রমে পরিপক্ক হইলে সেই শোণিতশুক্র হইতেই আবার হাত, পা, চোখ, মুখ, নাক, কান, সকলি জন্মে। অঙ্কুরও ঠিক সেই রকম। যত দিন বীজের ভিতর থাকে, সে পর্য্যস্ত তাহাতে গাছের কোন স্পষ্ট অবয়ব দেখা যায় না। অথচ, তাহাতে শিকড়, গুড়ী, শাখা, পল্লব, পাতা ও ফলফুল সকলি আছে। মাটীতে বীজ পুতিলে কল বাহির হয়, পাতা গজায়, ক্রমে তাহাতে গাছ হইয়া উঠে। পার্থীর ডিমও ঠিক এই প্রকার। ডিমের হরিদ্রাবর্ণ কুসুম টুকুই ছানা। তা দিতে দিতে ডিম পুষ্ট হইয়া উঠিলে সেই হলুদের মত শাস হইতে শাবক জন্মে। কিন্তু পার্থীরা ডিম পাড়িলে পর যদি সদ্যঃ সদ্যঃ তারা ভাঙ্গিয় ফেলা যায়, তাহা হইলে কেবল লালের মত শাস বাহির হইয়া পড়ে। তাহাতে না আছে ডান, না আছে ঠোট, না অাছে প—পার্থীর মত দেখিতে কিছুই নাই। অতএব মামুষের গর্ডের শোণিতশুক্রময় ভ্রণ, ডিমের হরিদ্রাৰণ শাস এবং বীজের অঙ্কুর এ তিনটা এক রকম পদার্থ। ভিজানো ছোলার উপরের খোসা তুলির ফেলিলে ডাল বাহির হইয় পড়ে। সেই ড’ল একটা নয়, আধ খানি আধখানি করিয়া ছুইটী এক সঙ্গে যোড় লাগানো। [ ও৮ ] অঙ্কুর নথ দিয়া সাবধানে চিরিলে এক দিকের যোড় খুলিয়া যায়, অন্ত দিকে সরু স্থতার মত একটা ক্ষুদ্র মাজে ডাল দুখানি লাগিয়া থাকে, না টানিলে ছিড়িয়া । আসে না। বৃক্ষাদির জীবন এই মাজের ভিতরে রহিয়াছে। উদ্ভিদ শাস্ত্রের পণ্ডিতেরা ঐ মাজ এবং শাস দুইখানিকে অঙ্কুর কহেন। বীজের উপরিভাগ যে আবরক ত্বকে ঢাকা থাকে, বাঙ্গালায় তাহার এক প্রকার নাম নয়। মালা, খোলা, বাকৃড়া, খোসা, ছাল, এই প্রকার অনেক নাম আছে। নারিকেলের ছোবড়ার নিমের আবরকের নাম মালা । আস্ত্রের কপির আবরণকে বাকৃড় কহে। বাদামের উপরের আবরণের নাম থোল ইত্যাদি । ইংরাজি উদ্ভিদ শাস্ত্রে উহাকে ইণ্টেগিউমেণ্ট (integument ) কহে । অস্কুরের শাস দুইখানির নাম কুঁড়াপাত (Cotyledons) । মাট ফুড়িয়া গাছ একটু বড় হইয়া উঠিলেই কুঁড়াপাত খসিয়া যায়। সকল গাছের কুঁড়াপাতের সংখ্যা সমান নয়। কোন কোন গাছের অস্কুরে একটা কুঁড়াপাত থাকে, সে সকল বৃক্ষকে এক পর্ণিক, (monocotyledon) কহে। যেমন নারিকেল, তাল ইত্যাদি। অনেক উক্তিদের অস্কুরে দুইটা কুঁড়াপাত থাকে । তাহাদিগকে দ্বিপর্ণিক (dicotyledon) কহে। যেমন লাউ, কুমুড়া ইত্যাদি । আবার কোন কোন গাছের এই বীজপত্র চারি পাচটার চেয়েও অধিক । মাজের সরু দিকে শিকড় জন্মে এবং মোট দিকে গাছের গুড়ী ও লতা গুল্মাদির ডাটা হয়। বীজ হইতে অঙ্কুর একটু ফুটিয়া উঠিলে তাহাকে ‘কল বাহির হওয়া বা ‘বীজমুকানো কহে । বীজের কি প্রকারে অন্ধুর জন্মে এবং গাছের জীবন কোথা হইতে আসে এ সকল কণার মীমাংসা বীজগর্তাsta ( fertilization) tzv. crte i বৃক্ষাদির জীবন অস্কুরেয় মধ্যেই আছে। উপযুক্ত স্থানে প্রয়োজনমত ভাপ ও জল বায়ু এবং আলো লাগিলে অকুরের জীবন অল্প অল্প তেজ করিতে থাকে। তেজ করিলেই কল ফুটিতে আরম্ভ হয়। অন্ধুর ফুটাইবার জন্ত বিধাতা কেমন কৌশল করিয়া রাখিয়াছেন । প্রথমে মাটীর রসে ভিজিয়লথোসা কোমল হইয়া আসে, এ দিকে ভিতরের শাসও একটু ফুলিঙ্কা উঠে ; তখন সহজেই খোসা ফাটিয়া যায় এবং কল বাহির হইয়। পড়ে। আগে অন্ধুর হইতে শিকড় গঙ্গাইয়া মাট ভেদ করিয়া নীচের দিকে যায়, তাহার পর ডাটা ও কুঁড়াপাত